শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, ৮১ বছর বয়সী রাজনীতিবিদ, ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের তহবিলপ্রাপ্ত জাঁতা পার্টি বাংলাদেশ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার দীর্ঘ ৪৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার দল পরিবর্তন করার ইতিহাস রয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে নতুন মোড় আনতে পারে।
জাফরের প্রথম নির্বাচনী সাফল্য ১৯৭৯ সালে ফরিদপুর-১ থেকে আওয়ামী লীগ (মালেক শাখা) টিকিটে অর্জিত হয়। এরপরের দশকে তিনি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পার্টির ঘরে ঘরে ঘুরে বেড়েছেন, যা তার রাজনৈতিক পরিচয়কে বহুমুখী করে তুলেছে।
১৯৮৬ সালে তিনি বাকসাল পার্টির নোমিনি হিসেবে জয়লাভ করেন, আর ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির ঘরে আবার নির্বাচনে জয়ী হন। তবে ১৯৯১ ও জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে একই পার্টি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও তিনি পরাজিত হন। ২০০১ সালে জাতীয় পার্টির একটি শাখা থেকে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ফলাফল অনুকূল না হয়। এরপর ২০০৮ ও ২০১৮ সালে তিনি বিএনপি টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আবার হারের মুখোমুখি হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যানের পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে ফলাফল তেমন না থাকে।
এখন জাফর জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের আওতায় জাঁতা পার্টি বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে নির্বাচনে নামবেন। তার এই নতুন সংযুক্তি ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক জোটগুলোকে পুনর্গঠন করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে।
শাহ মোহাম্মদ আবু জাফরের মতোই দল পরিবর্তনের প্রবণতা অন্য কয়েকজন রাজনীতিবিদেও দেখা যায়। রেডওয়ান আহমেদ, যিনি ২৪ ডিসেম্বর লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) থেকে পদত্যাগ করে বিএনপি-তে যোগ দেন, যাতে কুমিল্লা-৭ আসনের জন্য প্রার্থী সূচিতে স্থান পায়।
রেডওয়ান আহমেদের নির্বাচনী ইতিহাসও বিচিত্র। তিনি প্রথমবার ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি টিকিটে সংসদ সদস্য হন, ১৯৯১ সালে স্বাধীনভাবে জয়লাভ করেন এবং ২০০১ সালে আবার বিএনপি টিকিটে নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে তিনি বিএনপি ত্যাগ করে অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন এলডিপিতে যোগ দেন, তবে সম্প্রতি আবার সেই পার্টি ত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা খুঁজছেন।
অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি সম্প্রতি জামাত-ই-ইসলামি-নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটে যোগদান করেছে, যা আগামী নির্বাচনে নতুন জোট গঠনের ইঙ্গিত দেয়। অলি আহমেদের রাজনৈতিক যাত্রা ১৯৮০ সালে বিএনপি থেকে শুরু হয়; সেই বছর তিনি একটি উপ-নির্বাচনে জয়লাভ করেন এবং ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত চারবার একই পার্টি থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
২০০৬ সালে তিনি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিষ্ঠায় অংশ নেন, যা পরে আওয়ামী লীগ-নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে। তবে ২০১২ সালে তিনি বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেন। এই জোট থেকে তিনি ডিসেম্বর ২০২৫ সালে সিটের বিতরণ নিয়ে অসন্তোষের কারণে বেরিয়ে আসেন।
এইসব রাজনৈতিক পুনর্গঠন এবং দল পরিবর্তন দেশের ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে নতুন জোটের গঠন ও কৌশলগত সমন্বয়ের সুযোগও সৃষ্টি করে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে এই ধরনের পরিবর্তনগুলো পার্টির ভিত্তি ও নির্বাচনী ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, জাফর, রেডওয়ান আহমেদ ও অলি আহমেদের মত অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের নতুন জোটে অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করতে পারে। নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করবে এই পুনর্গঠিত জোটগুলোর সমন্বয় ক্ষমতা, প্রার্থীদের স্থানীয় ভিত্তি এবং ভোটারদের পরিবর্তিত প্রত্যাশার ওপর।



