জন কার্নাহান, যিনি ২০০২ সালের ‘নার্ক’ দিয়ে তীব্র পুলিশ থ্রিলার পরিচালনার জন্য স্বীকৃতি পেয়েছেন, সম্প্রতি বেন আফ্লেক ও ম্যাট ড্যামনের সঙ্গে কাজের জন্য তাদের প্রশংসা জানিয়েছেন। এই প্রশংসা ‘দ্য রিপ’ নামের নেটফ্লিক্স মূলক চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দুজন অভিনেতা প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
‘নার্ক’ পরবর্তী বছরগুলোতে কার্নাহানকে আরও কঠোর পুলিশ নাটক তৈরির প্রত্যাশা গড়ে তুলেছে। বহু বছর ধরে তিনি এই ধারার প্রকল্পে কাজের ইচ্ছা প্রকাশ করছিলেন, তবে যথাযথ গল্প না পাওয়ায় অপেক্ষা করতেই বাধ্য হন। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজে একটি বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে নতুন স্ক্রিপ্ট রচনা করে এই ইচ্ছা পূরণ করেন।
‘দ্য রিপ’ এর ধারণা প্রায় এক দশক আগে ‘ব্যাড বয়েজ ফর লাইফ’ ছবির তৃতীয় অংশের লেখক ও পরিচালক হিসেবে কাজ করার সময় শুরু হয়। যদিও ২০১৭ সালে তিনি সেই প্রকল্প থেকে সরে যান, তবু মিয়ামির একজন ট্যাকটিক্যাল নারকোটিক্স টিমের (TNT) প্রযুক্তিগত পরামর্শদাতা ক্রিস ক্যাসিয়ানোয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধন গড়ে ওঠে। ক্যাসিয়ানো তার টিমের এক অপারেশনের গল্প শেয়ার করেন, যেখানে একটি বাড়িতে গোপনে $২৪ মিলিয়ন নগদ পাওয়া যায়।
এই ঘটনার ভিত্তিতে কার্নাহান ও সহ-লেখক মাইকেল ম্যাকগ্রেল প্রথমে একটি খসড়া তৈরি করেন, পরে কার্নাহান নিজে পুরো স্ক্রিপ্টটি সম্পন্ন করেন। স্ক্রিপ্টের মূল কাঠামো ক্যাসিয়ানোয়ের অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া হলেও, গল্পে কিছু সৃজনশীল পরিবর্তনও যুক্ত করা হয়েছে।
ক্যাসিয়ানোয়ের ব্যক্তিগত দুঃখের বিষয়ও গল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; তার ১১ বছর বয়সী পুত্র লিউকেমিয়ার কারণে মৃত্যুবরণ করেন। এই ট্র্যাজেডি লিয়ুটেন্যান্ট ডেন ডুমার্স নামের মিয়ামি পুলিশ চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে, যার মানবিক দিকগুলোকে আরও গভীরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
কার্নাহান ২০০৬ সালে ‘স্মোকিন’ এসেস’ ছবিতে বেন আফ্লেকের সঙ্গে কাজ করার সময় দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এই বন্ধুত্বের ফলে তিনি পরে ‘দ্য রিপ’ এর স্ক্রিপ্টটি আফ্লেকের প্রযোজনা সংস্থা আর্টিস্টস ইকুইটির কাছে পাঠান। সংস্থাটি স্ক্রিপ্টটি গ্রহণের পর ম্যাট ড্যামনকে ডুমার্সের ভূমিকায় এবং আফ্লেককে ডিটেকটিভ সার্জেন্ট জেডি বাইর্নের ভূমিকায় নির্ধারণ করে।
চলচ্চিত্রের মূল কাহিনী ডুমার্সের হাতে একটি গোপন সূত্র পাওয়া থেকে শুরু হয়, যেখানে একটি গুদাম ঘরে বিশাল পরিমাণ নগদ লুকিয়ে আছে বলে জানা যায়। ডুমার্স ও তার ট্যাকটিক্যাল টিম দ্রুত একটি রেইড পরিচালনা করে, তবে প্রত্যাশিত $৪০০,০০০ নগদের বদলে তারা $২০ মিলিয়ন নগদ পায়। এই অপ্রত্যাশিত পরিমাণের ফলে ঘটনাটি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ডুমার্স এবং তার সহকর্মী ডিটেকটিভ জেডি বাইর্ন এই বড় পরিমাণের অর্থের পেছনের সত্য উদ্ঘাটনের জন্য মিয়ামি-ডেডের পুলিশ বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলেন। রেইডের পরবর্তী পর্যায়ে তারা বিভিন্ন বাধা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, যা গল্পের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
‘দ্য রিপ’ শুধুমাত্র একটি অ্যাকশন থ্রিলার নয়, এটি ছোটখাটো মানুষদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে। কার্নাহান এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দেখাতে চান যে, কঠিন পরিস্থিতিতেও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ন্যায়ের পথে চলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
নেটফ্লিক্সের মূলধারার প্ল্যাটফর্মে এই চলচ্চিত্রটি প্রকাশিত হওয়ায় বিস্তৃত দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বেন আফ্লেক ও ম্যাট ড্যামনের পারফরম্যান্স, পাশাপাশি কার্নাহানের বাস্তব ঘটনার ভিত্তিক স্ক্রিপ্ট, দর্শকদের জন্য একটি তীব্র এবং চিন্তাশীল অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।
চলচ্চিত্রের নির্মাণে মিয়ামির স্থানীয় পুলিশ সংস্কৃতি ও ট্যাকটিক্যাল অপারেশনের বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে, যা গল্পকে আরও প্রামাণিক করে তুলেছে। ক্যাসিয়ানোয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও তার ব্যক্তিগত দুঃখের সংমিশ্রণ চরিত্রগুলোর মানবিক দিককে সমৃদ্ধ করেছে।
‘দ্য রিপ’ এর মুক্তি নেটফ্লিক্সের মূলধারার কন্টেন্ট লাইব্রেরিতে নতুন একটি উচ্চমানের পুলিশ থ্রিলার যোগ করেছে, যা দর্শকদের জন্য উত্তেজনা, নাটক এবং মানবিক মূল্যবোধের মিশ্রণ উপস্থাপন করবে।



