ইন্টার মিলানকে ২-১ পার করে আরসেনাল ইউরোপীয় গোষ্ঠী পর্যায়ে অগ্রসর হয়েছে। গ্যাব্রিয়েল জিসাসের দু’টি গোল এবং বিক্টর গ্যোকারেসের শেষের শটের ফলে গ্রীষ্মের শেষের ম্যাচে লাল-সাদা জার্সি পরিধানকারী দলটি সেভেন-সেভেন জয় অর্জন করেছে।
এই জয় আরসেনালের গোষ্ঠী পর্যায়ে সম্পূর্ণ বিজয় নিশ্চিত করে, ফলে দলটি সরাসরি রাউন্ড অফ ১৬-এ প্রবেশ করবে। গোষ্ঠীতে সাতটি ম্যাচের সবটিতে জয় পেয়ে তারা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ জয়ের ধারাবাহিকতা গড়ে তুলেছে।
প্রথমার্ধে পেটার সুকিচের সমান গোলের পর জিসাস দ্রুতই শূন্যে ফিরে এসে ইন্টারের গোলপোস্টে বল পাঠায়। দ্বিতীয় গোলটি কোণার কিক থেকে সরাসরি গন্তব্যে পৌঁছায়, যা সিজনের ১৯তম গোল হিসেবে রেকর্ড হয়।
ইন্টারের একমাত্র সমান করার গোলটি প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে সুকিচের দখলে আসে, তবে আরসেনালের আক্রমণাত্মক চাপ দ্রুতই পুনরুদ্ধার করে। জিসাসের প্রথম গোলের পরই দলটি স্কোরের সুবিধা পায় এবং শেষ পর্যন্ত তা বজায় রাখে।
গ্যাব্রিয়েল জিসাস ১১ মাসের দীর্ঘ এ সি এল আঘাতের পর পুনরায় মাঠে ফিরে আসা প্রথম ম্যাচে এই পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। তিনি জয় অর্জনের পর টিমের সঙ্গে ট্রফি জয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যা তার ব্যক্তিগত লক্ষ্যকে স্পষ্ট করে।
আর্থেটার অধীনে আরসেনাল বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে সাত পয়েন্টের ব্যবধানে শীর্ষে রয়েছে এবং দুটো দেশীয় কাপের প্রতিযোগিতায়ও অংশগ্রহণ করছে। এই মুহূর্তে দলটির জন্য ট্রফি সংগ্রহের সর্বোত্তম সুযোগ দেখা দিচ্ছে।
গত মৌসুমে গোষ্ঠী পর্যায়ে ইন্টারের হাতে পরাজিত হওয়া স্মৃতি আরসেনালের কোচের মনের মধ্যে এখনও তাজা। সেই সময়ে মিকেল মেরিনোর বিরুদ্ধে বিতর্কিত পেনাল্টি ইন্টারকে জয় এনে দেয়। এই ম্যাচে আরসেনাল পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বীর ওপর বিজয় অর্জন করে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
ম্যাচের আগে আরসেনাল সাতজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করে, যার মধ্যে ক্রিস্টিয়ান মস্কেরার অ্যানকেল ইনজুরির পর গ্যাব্রিয়েল মাগালহেসের পরিবর্তে মাঠে নামা অন্তর্ভুক্ত। এই পরিবর্তনগুলো দলকে নতুন শক্তি যোগায় এবং ম্যাচের গতিপথে প্রভাব ফেলে।
ইন্টারের ডিফেন্সের প্রাক্তন সিটি খেলোয়াড় মানুয়েল আকাঞ্জি পূর্বে বলেছিলেন, ইউরোপের শীর্ষ দল হিসেবে বায়ার্ন মিউনিখকে লক্ষ্য করা উচিত। তবে আরসেনালের ধারাবাহিক জয় তাকে ইউরোপীয় শীর্ষের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।
দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে বিক্টর গ্যোকারেসের চমৎকার শট স্কোরবোর্ডে শেষের পয়েন্ট যোগ করে। তার গোলটি দলকে ২-১ পার্থক্যে জয় নিশ্চিত করে এবং গোষ্ঠী পর্যায়ে অগ্রগতির চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়ায়।
এই জয়ের ফলে আরসেনাল রাউন্ড অফ ১৬-এ কোন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে গোষ্ঠী শীর্ষে থাকার ফলে তারা সুবিধাজনক ড্রয়িং পেতে পারে। দলটি এখন রাউন্ড অফ ৩২-এর প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছে।
আগামী সপ্তাহে আরসেনাল ইউরোপীয় গোষ্ঠীর শেষ ম্যাচটি খেলবে, যেখানে তারা শীর্ষে অবস্থান বজায় রাখতে চায়। একই সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতিও চলছে, যা দলকে দুইটি বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।



