বার্সেলোনা শহরের পশ্চিমে গেলিদা ও সাঁ সাদুর্নি এলাকার মধ্যে একটি কমিউটার ট্রেনের রেলপথে দুর্ঘটনা ঘটেছে। ট্রেনটি রোডালিসে সেবা দিচ্ছিল, যখন রেলপথের পাশে থাকা রিটেইনিং ওয়াল ধসে পড়ে ট্রেনের সাথে ধাক্কা খায়। এই সংঘর্ষে ড্রাইভার প্রাণ হারান এবং অন্তত পনেরো যাত্রী আহত হন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, দুর্ঘটনা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটেছে, যখন তীব্র বৃষ্টিপাত এবং বাতাসের ঝড় উত্তর-পূর্ব স্পেনকে আচ্ছন্ন করছিল। রিটেইনিং ওয়ালটি ট্র্যাকের উপর পড়ে যাওয়ায় ট্রেনটি সোজা পথে চালিয়ে যেতে পারেনি এবং ডেরেইল হয়ে গিয়েছিল।
আহতদের অবস্থা এখনো মূল্যায়নের পর্যায়ে রয়েছে। জরুরি সেবা দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোট এগারোটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠায়, যা আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে। ট্রেনের ড্রাইভারকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
অগ্নি বিভাগ থেকে ত্রিশ পাঁচটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং এক যাত্রীকে ট্রেনের ভেতরে আটকে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করে। এই রকম জরুরি অপারেশন এলাকায় অগ্নি ও রেসকিউ কর্মীদের দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা প্রদর্শন করে।
দুর্ঘটনা ঘটার সময় স্পেনে তীব্র ঝড়ের প্রভাব দেখা গিয়েছিল। উত্তর-পূর্ব অংশে ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত এবং তীব্র বাতাসের ফলে রেলপথের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে, স্পেনের পিরেনিয়াস পর্বতমালায় তুষারঝড় এবং মেনোর্কা দ্বীপের উপকূলে উচ্চ তরঙ্গের সতর্কতা জারি করা হয়।
বাতাসের তীব্রতা এবং বৃষ্টিপাতের কারণে স্পেনের বহু উপকূলীয় অঞ্চল উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। মেনোর্কা দ্বীপে কয়েক মিটার উচ্চতার ঢেউ দেখা গিয়েছে, যা স্থানীয় পর্যটন ও মাছ ধরা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। পিরেনিয়াসে তুষারঝড়ের ফলে গাড়ি চলাচল ও সড়ক নিরাপত্তা সমস্যায় পড়েছে।
এই দুর্ঘটনা স্পেনের সাম্প্রতিক রেল নিরাপত্তা সংকটের ধারাবাহিকতা বহন করে। মাত্র দুই দিন আগে আন্দালুসিয়ার আদামুজে দুটি হাই-স্পিড ট্রেনের সংঘর্ষে ৪২ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছিলেন, যা দশকের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক রেল দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। উভয় ঘটনার পর স্প্যানিশ সরকার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবহন কমিশন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্বরান্বিত পুনর্বিবেচনা দাবি করেছে।
ইউরোপীয় পরিবহন কমিশনারের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “স্পেনের রেল নেটওয়ার্কে ধারাবাহিক নিরাপত্তা ত্রুটি দেখা দিচ্ছে, যা ত্বরিত তদন্ত এবং কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সদস্য দেশগুলোকে দুর্যোগ-প্রতিরোধী অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি রেল নিরাপত্তা মানদণ্ডের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
স্প্যানিশ সরকার ইতিমধ্যে একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যা দুর্ঘটনার মূল কারণ, রিটেইনিং ওয়ালের কাঠামোগত অবস্থা এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত প্রভাব বিশ্লেষণ করবে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি প্রতিক্রিয়া প্রোটোকল পুনর্গঠন করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধ করা যায়।



