লুমিনার লিডার নির্মাতা কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন সিইও অস্টিন রাসেল, মঙ্গলবার দাখিল করা আদালতের নথি অনুযায়ী, তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনের তথ্য সরবরাহের জন্য ইলেকট্রনিক সাবপোনা গ্রহণে সম্মত হয়েছেন। এই পদক্ষেপটি কোম্পানির দেউলিয়া প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে এবং তথ্যের ব্যবহার ও সুরক্ষার শর্তাবলী নির্ধারণের জন্য উভয় পক্ষের সমঝোতা প্রকাশ করে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রাসেলকে এখন সাত দিনের মধ্যে সাবপোনা বাতিলের আবেদন (মোশন টু কোয়াশ) দাখিল করতে হবে অথবা আপত্তি জানাতে হবে; যদি তিনি এই সময়সীমা মেনে না চলেন, তবে চৌদ্দ দিনের মধ্যে ফোনের ডেটা প্রদান বাধ্যতামূলক হবে। এই সময়সীমা উভয় পক্ষকে তথ্যের গোপনীয়তা ও আইনি প্রয়োজনীয়তা সমন্বয় করার সুযোগ দেয়।
এই সমঝোতা দুই সপ্তাহ আগে লুমিনারের আইনজীবীরা রাসেলকে ফ্লোরিডার তার ম্যানশন গেটের সামনে প্রক্রিয়া সার্ভারদের প্রত্যাখ্যান করার অভিযোগের পর আসে। সেই সময়ে কোম্পানি দাবি করেছিল যে রাসেল ইচ্ছাকৃতভাবে সাবপোনা এড়িয়ে গেছেন, যা আদালতে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করে।
রাসেল দাবি করেন, তিনি ফোনের তথ্য সরবরাহ করতে অনিচ্ছুক ছিলেন যতক্ষণ না লুমিনার তার ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার স্পষ্ট গ্যারান্টি দেবে। নতুন দাখিলের মাধ্যমে উভয় পক্ষ তথ্যের হ্যান্ডলিং, সংরক্ষণ ও ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দিষ্ট প্রোটোকল নিয়ে একমত হয়েছে, যা গোপনীয়তা সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করার লক্ষ্য রাখে।
লুমিনার ডিসেম্বর মাসে চ্যাপ্টার ১১ দেউলিয়া সুরক্ষা চেয়েছিল, কারণ ভলভো ও মেরসেডিজ‑বেঞ্জের মতো প্রধান গ্রাহকদের সঙ্গে চুক্তি হারিয়ে ফেলেছিল এবং চীনের লিডার নির্মাতাদের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়েছিল। এই চুক্তি হারানো ও বাজারে শেয়ার হ্রাস কোম্পানির আর্থিক অবস্থা দুর্বল করে দেউলিয়া প্রক্রিয়া শুরু করতে বাধ্য করে।
গত সপ্তাহে লুমিনার কুয়ান্টাম কম্পিউটিং ইনক. (QCI) এর সঙ্গে লিডার সম্পদ বিক্রয়ের জন্য ২২ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সম্পন্ন করেছে। একই সঙ্গে, সেমিকন্ডাক্টর বিভাগ বিক্রয়ের জন্য ১১০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবও QCI-কে দেওয়া হয়েছে, যা কোম্পানির সম্পদ পুনর্গঠন ও ঋণ পরিশোধে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
লুমিনার এই মাসের শেষের দিকে একটি নিলাম আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে, যাতে QCI-এর প্রস্তাবের চেয়ে উচ্চতর দরদাতাদের আকর্ষণ করা যায় এবং সম্ভবত আরও ভালো শর্তে সম্পদ বিক্রি করা যায়। নিলামের লক্ষ্য হল দেউলিয়া প্রক্রিয়ার শেষে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার ও ঋণদাতাদের জন্য সর্বোচ্চ আর্থিক রিটার্ন নিশ্চিত করা।
অস্টিন রাসেল অক্টোবর মাসে, সিইও পদত্যাগের পর এবং নৈতিক তদন্তের পর, লুমিনার শেয়ার কিনতে চেয়েছিলেন, তবে দেউলিয়া দায়ের আগে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। তার পদত্যাগের পেছনে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নৈতিক প্রশ্নের তদন্ত ছিল, যা তার ক্রয় পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করে।
তার নতুন উদ্যোগ রুসেল এআই ল্যাবসের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, রাসেল লুমিনারের লিডার সম্পদের জন্য বিড জমা দিতে আগ্রহী, তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দাখিল করা হয়নি। এই আগ্রহ কোম্পানির ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি দিকনির্দেশনা ও সম্ভাব্য পুনর্গঠন কৌশলকে প্রভাবিত করতে পারে।
দেউলিয়া প্রক্রিয়ায় লুমিনার রুসেলকে তার পদত্যাগের পর থেকে তথ্য সরবরাহের দাবি করে আসছে; রুসেল ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি কম্পিউটার প্রদান করেছেন, তবে ফোনটি গোপনীয়তার উদ্বেগে ধরে রেখেছেন। কোম্পানি দাবি করে যে ফোনের ডেটা লুমিনারের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত, তাই তা সংগ্রহ করা প্রয়োজন।
মূল দাখিল অনুযায়ী, লুমিনার দুইটি ফোনের তথ্য চেয়েছিল, যার মধ্যে একটি ইতিমধ্যে রুসেল সরবরাহ করেছেন; বাকি ফোনের বিষয়ে এখন সাবপোনা বিষয়টি সমাধান করা হচ্ছে। উভয় পক্ষের সমঝোতা এই তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত শর্তাবলী স্পষ্ট করে, যা দেউলিয়া প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সাবপোনা গ্রহণের মাধ্যমে লুমিনার ও রুসেল উভয়ই তথ্যের হ্যান্ডলিং, সংরক্ষণ ও ব্যবহার সংক্রান্ত স্পষ্ট প্রোটোকল স্থাপন করতে পারবে, যা দেউলিয়া মামলার স্বচ্ছতা ও আইনি প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনায় সহায়তা করবে। এই চূড়ান্ত সমঝোতা কোম্পানির সম্পদ বিক্রয়, নিলাম এবং সম্ভাব্য পুনর্গঠন পরিকল্পনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি স্থাপন করে।



