কেনিয়ার রাজধানী নায়রোবিতে সাংবাদিক বেয়া ওয়াংগোন্দু ২৫ জানুয়ারি সান্ডেন্স ফেস্টিভ্যালে বিশ্বসিনেমা ডকুমেন্টারি প্রতিযোগিতায় তার নতুন চলচ্চিত্র “কিকুয়ু ল্যান্ড” উপস্থাপন করেন। চলচ্চিত্রটি স্থানীয় সরকার ও বহুজাতিক সংস্থার মধ্যে জমি পুনর্বাসন বিরোধের পটভূমিতে নির্মিত এবং এতে ওয়াংগোন্দুর নিজের পারিবারিক ইতিহাসও উন্মোচিত হয়। এই কাজের মাধ্যমে তিনি কেনিয়ার বৃহত্তম জাতি কিকুয়ুর জমি অধিকার ও ঐতিহাসিক অবিচারের দিকে আলোকপাত করতে চেয়েছেন।
ডকুমেন্টারির পরিচালনা ও চিত্রগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্ড্রু এইচ. ব্রাউন সহ-পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। উভয় পরিচালক পূর্বে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের জন্য একসঙ্গে কাজ করছিলেন, যেখানে ব্রাউন তখন নগুই ও থিয়ংগোর ১৯৬৪ সালের উপন্যাস “Weep Not, Child” পড়ছিলেন, যা কিকুয়ু পরিবারের ভূমি হারানোর গল্প বলে। এই সাহিত্যিক প্রেরণা তাদেরকে কেনিয়ার জমি সমস্যাকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্তে পৌঁছে দেয়।
সান্ডেন্সের বিশ্বসিনেমা ডকুমেন্টারি বিভাগে চলচ্চিত্রটি প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সাহীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। চলচ্চিত্রের সময়কাল প্রায় এক ঘণ্টা, যেখানে ওয়াংগোন্দু নিজেই নায়রোবির বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সরকারী নথি, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বহুজাতিক কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার নেন। এই সাক্ষাৎকারগুলোতে জমি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার জটিলতা ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
চলচ্চিত্রের মূল কাহিনী ওয়াংগোন্দুর নিজের পারিবারিক ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। তিনি জানতে পারেন যে তার দাদার পূর্বপুরুষদের জমি, যা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সময়ে জোরপূর্বক নেওয়া হয়েছিল, এখন পুনর্বাসনের দাবি করা হচ্ছে। এই তথ্য তার ব্যক্তিগত অনুসন্ধানকে জাতীয় স্তরে একটি বৃহত্তর সামাজিক প্রশ্নে রূপান্তরিত করে। তার পরিবারের গল্পের মাধ্যমে কিকুয়ু সম্প্রদায়ের বহু বছর ধরে চলমান জমি অধিকার সংগ্রামের একটি মাইক্রো-কেস উপস্থাপিত হয়।
ডকুমেন্টারিটি ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার, আধুনিক নীয়োকলোনিয়ালিজম এবং বহুজাতিক কর্পোরেশনের প্রভাবকে সমালোচনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করে। জমি পুনর্বাসন কেবল আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং সামাজিক ও মানসিক ট্রমার পুনরাবৃত্তি হিসেবেও দেখা হয়। চলচ্চিত্রে দেখানো হয়েছে কীভাবে ঐতিহাসিক অবিচার আজকের অর্থনৈতিক বৈষম্যকে বাড়িয়ে তুলছে এবং স্থানীয় জনগণের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী আঘাত সৃষ্টি করছে।
ওয়াংগোন্দু ও ব্রাউন চলচ্চিত্র তৈরির সময় স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিরোধের ঝুঁকি স্বীকার করেন। কিকুয়ু সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বিষয়টি উন্মোচন করা হলে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও ব্যক্তিগত অপমানের সম্ভাবনা থাকে। তবুও তারা বিশ্বাস করেন যে সত্যিকারের পরিবর্তন শুরু হয় যখন অস্বস্তিকর প্রশ্নগুলো প্রকাশ্যে আসে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে চলচ্চিত্রটি কেবল তথ্যবহুল নয়, বরং সামাজিক দায়িত্ববোধেরও প্রতিফলন।
কিকুয়ু সম্প্রদায়ের বহু সদস্য এই ডকুমেন্টারিকে তাদের জমি পুনরুদ্ধারের আশা হিসেবে দেখছেন। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করতে এবং ন্যায়সঙ্গত সমাধানের জন্য চাপ বাড়াতে চায়। একই সঙ্গে ওয়াংগোন্দুর ব্যক্তিগত যাত্রা অন্য তরুণ সাংবাদিকদের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যারা নিজের ইতিহাসকে বৃহত্তর সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করে কাজ করতে চায়।
ডকুমেন্টারির সান্ডেন্স প্রিমিয়ার পর থেকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলচ্চিত্রের নির্মাতা দল আশা প্রকাশ করেছেন যে আন্তর্জাতিক দর্শকরা কেনিয়ার জমি সমস্যার জটিলতা বুঝে সমর্থনমূলক নীতি গঠনে সহায়তা করবে। এই প্রচেষ্টা কিকুয়ু ল্যান্ডকে শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং একটি সামাজিক আন্দোলনের সূচনা হিসেবে উপস্থাপন করে।



