যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে শীতল ওয়াশিংটন শীতের মধ্যে তার শপথ গ্রহণের সমাপনী ভাষণ শেষ করেন, যেখানে তিনি “আমাদের পথে কিছুই থামাতে পারবে না” বলে তীব্র তালি পেয়েছিলেন। এই ঘোষণার সঙ্গে তিনি ১৯শ শতাব্দীর “ম্যানিফেস্ট ডেস্টিনি” নীতির উল্লেখ করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মহাদেশ জুড়ে বিস্তারকে ঈশ্বরীয় মিশন হিসেবে দেখায়।
সেই মুহূর্তে ট্রাম্প প্যানামা খালের ওপর তার দাবি পুনরায় তুলে ধরেন এবং “আমরা এটিকে পুনরুদ্ধার করব” বলে ঘোষণা দেন। এখন একই দৃঢ়সঙ্কল্পের ভাষা গ্রিনল্যান্ডের দিকে ঘুরে এসেছে, যেখানে তিনি “এটি আমাদের দরকার” বলে নতুন নীতি প্রকাশ করেছেন। এই ধরনের দাবি দীর্ঘদিনের মিত্র দেশের ভূখণ্ডকে নিজের শাসনের অধীনে নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়, যা সাম্প্রতিক শতাব্দীর কোনো আমেরিকান প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে শোনা যায়নি।
ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আক্রমণ, দখল এবং গোপন অপারেশন দেখা গেছে, তবে কোনো প্রেসিডেন্টের এমন সরাসরি ভূখণ্ডীয় দাবি না থাকায় এই ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা এবং দীর্ঘস্থায়ী মিত্রতা এখন ট্রাম্পের রেটোরিকের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জের মুখে।
বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় নেতারা এই পরিবর্তনকে নিয়মের অবহেলা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এম্যানুয়েল ম্যাক্রন ড্যাভোস অর্থনৈতিক ফোরামে আন্তর্জাতিক আইনকে অগ্রাহ্য করে শক্তিশালী দেশগুলোর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দিকে বিশ্বকে সতর্ক করেছেন, যদিও তিনি সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি।
ম্যাক্রনের মন্তব্যের পর থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোতে ট্রাম্পের নীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও জার্মানির সরকারী সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে যে, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর আঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এশিয়ার দিকে তাকালে, চীন ও রাশিয়া উভয়ই ট্রাম্পের রেটোরিককে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। উভয় দেশের সরকারী মুখপাত্রের মন্তব্যে দেখা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের অপ্রত্যাশিত ভূখণ্ডীয় দাবিগুলো বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
ট্রাম্পের এই নতুন রণনীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতি পরিবর্তনের ফলে সম্ভাব্য বাণিজ্য যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলাকে ব্যাহত করতে পারে।
নাটোর ভবিষ্যৎও এই পরিবর্তনের আলোকে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ৭৬ বছর বয়সী এই সামরিক জোটের সদস্য দেশগুলোতে কিছু অংশের মধ্যে ট্রাম্পের নীতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিতর্ক দেখা দিচ্ছে, যেখানে কিছু নেতারা জোটের ঐতিহ্যবাহী নীতি বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ট্রাম্পের সমর্থকরা তার রেটোরিককে দেশীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসা করছেন। তবে বিরোধী গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও সতর্কতা প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের কিছু সদস্য দেশ ট্রাম্পের ভূখণ্ডীয় দাবিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
ভবিষ্যতে ট্রাম্পের নীতি কীভাবে বিকশিত হবে এবং তা বিশ্ব শৃঙ্খলায় কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে স্পষ্ট যে, তার রেটোরিক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রচলিত নিয়মকে পুনর্বিবেচনার দরকার তৈরি করেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ নেতারা এখন ট্রাম্পের রণনীতি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়। এই আলোচনার ফলাফল ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক নীতি ও মিত্রতার দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



