মঙ্গলবার, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান গাজা বোর্ড অব পিসে (Board of Peace) সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন। এই ঘোষণাটি দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং গাজা সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন মাত্রা নির্দেশ করে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজা বিষয়ক ট্রাম্পের ২০ ধাপের শান্তি পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নের গুরুত্বকে বিবেচনা করে ইউএই এই বোর্ডে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিকল্পনাটি ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি গাজার দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধানে কাঠামোগত পদক্ষেপের ওপর জোর দেয়।
মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে, গাজা সমস্যার সমাধান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শান্তি প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ইউএই দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি বজায় রেখেছে। এই ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি নতুন উদ্যোগে প্রতিফলিত হয়েছে, যা গাজার জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ঘোষণার পূর্বে, ইউএইর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতিমন্ত্রী রিম আল হাশিমিকে গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তিনি গাজার জাতীয় প্রশাসন কমিটি এবং বৃহত্তর বোর্ড অব পিসের মধ্যে সংযোগকারী সেতু হিসেবে কাজ করবেন, যা নীতি সমন্বয় এবং কার্যকরী তদারকি সহজ করবে।
গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ডের দায়িত্বের মধ্যে গাজার প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করা, মানবিক সহায়তা সমন্বয় এবং পুনর্গঠন কাজের ত্বরান্বিত বাস্তবায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই সংযোগের মাধ্যমে গাজার জাতীয় কমিটি ও বোর্ড অব পিসের মধ্যে তথ্যের সুষ্ঠু প্রবাহ নিশ্চিত হবে এবং সমন্বিত কৌশল গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ইউএই ছাড়াও বেশ কয়েকটি আরব দেশও গাজা বোর্ড অব পিসে যোগ দিচ্ছে। এই সমবায়ের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রের সমন্বিত প্রচেষ্টা গাজার শান্তি প্রক্রিয়াকে সমর্থন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্পের নেতৃত্বে গঠিত এই বোর্ড গাজায় শান্তি ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কৌশলগত তদারকি করবে, আন্তর্জাতিক তহবিল সংগ্রহে সহায়তা করবে এবং প্রকল্পের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। বোর্ডের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং ফলাফলমুখী পদ্ধতি গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মতে, গাজার সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং পুনর্গঠনই এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য। এতে অনুমোদনহীন সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ইউএইর এই পদক্ষেপ গাজার রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপ্রকোপ আনতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে গাজা সমস্যার সমাধানে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে। ভবিষ্যতে বোর্ডের সিদ্ধান্তগুলো গাজার নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে নির্ধারক ভূমিকা পালন করবে।
পরবর্তী ধাপে, গাজা বোর্ড অব পিসে সদস্য দেশগুলো সমন্বিতভাবে ট্রাম্পের ২০ ধাপের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি তৈরি করবে এবং গাজার জনগণের জন্য ত্বরান্বিত সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে। এই প্রক্রিয়ার সফলতা গাজার দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সমাধানে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



