মঙ্গলবার নরওয়ের আস্পমাইরা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ ম্যাচে বডো/গ্লিম্ট ৩-১ স্কোরে ম্যানচেস্টার সিটি দলকে পরাস্ত করেছে। এটি ক্লাবের ইতিহাসে চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম জয়, আর সিটি দলের জন্য বড় ধাক্কা।
প্রথমার্ধে কাসপার হগের দু’টি গোল দলকে ২-০ অগ্রগতিতে নিয়ে যায়। হগের দ্রুতগতির দৌড় এবং সঠিক শুটিং বডোর আক্রমণকে প্রাধান্য দেয়, আর সিটির রক্ষকরা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে জেনস পেটার হগে অতিরিক্ত একটি গোল করে স্কোরকে ৩-০ করে তোলেন। হগের এই গোলটি বডোর দ্রুতগতির পাস এবং শেষ মুহূর্তের শটের ফলাফল, যা সিটির গোলরক্ষককে অপ্রস্তুত রাখে।
ম্যানচেস্টার সিটি তৎক্ষণাৎ রায়ান চেরকির এক গোল দিয়ে একবারই সমতা ফিরিয়ে আনে, তবে রোড্রির দ্বিতীয় হল্ডে দু’বার হল্ড পেয়ে লাল কার্ড দেখায় এবং মাঠ ছেড়ে যায়। রোড্রির বহিষ্কারের ফলে সিটির মাঝখানে গ্যাপ বাড়ে, এবং দলটি শেষ পর্যন্ত হেরে যায়।
ম্যাচটি আর্কটিক বৃত্তের উত্তরে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি ছোট মাছ ধরার শহরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। বডোর জনসংখ্যা মাত্র ৫৫,০০০, যা ম্যানচেস্টার সিটির এতিদাহ স্টেডিয়ামের দর্শক সংখ্যার চেয়ে অনেক কম।
আর্থিক ও প্রতিভার পার্থক্য সত্ত্বেও কেজিটিল ক্নুটসেনের অধীনে বডো/গ্লিম্ট দলটি বড় ক্লাবের মুখোমুখি হয়ে সফলতা দেখিয়েছে। নরওয়ের দেশীয় সিজন শেষ হওয়ার পর ডিসেম্বর থেকে কোনো ম্যাচ না খেলে দলটি ইউরোپا লিগের সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল, যা গত দশকে তাদের উত্থানকে চিহ্নিত করে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্যায়ে প্রথমবার অংশগ্রহণকারী বডো/গ্লিম্ট ইতিমধ্যে বোরুসিয়া ডর্টমুন্ড এবং টটেনহ্যাম হটস্পার বিরুদ্ধে সমান স্কোরের ড্র পেয়েছে, যা তাদের প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে সতর্কতা দিত। তবে সিটি দলটি এই সতর্কতা উপেক্ষা করে, এবং বডোর ধারাবাহিক প্রেসিংয়ের মুখে ধীরগতির খেলা দেখায়।
ম্যানচেস্টার সিটি দলটি গার্ডিয়োয়ালার স্বাভাবিক সময়সূচি থেকে আগে নরওয়ে পৌঁছায়, যাতে খেলোয়াড়রা বডোর কৃত্রিম ঘাসের পিচে প্রশিক্ষণ নিতে পারে। তবু ম্যাচে দলটি সমন্বয়হীন এবং বিচ্ছিন্নভাবে খেলতে দেখা যায়, যা তাদের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে।
প্রিমিয়ার লিগে সিটি দলটি শেষ চারটি ম্যাচে কোনো জয় অর্জন করতে পারেনি, এবং সাম্প্রতিক শনিবারের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ২-০ পরাজয় তাদের পয়েন্টের ঘাটতি বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে তারা শীর্ষস্থানীয় আর্সেনাল থেকে সাত পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে।
গার্ডিয়োয়ালার জন্য এই পরাজয়টি উদ্বেগজনক, কারণ এটি ধারাবাহিকভাবে দলকে দুর্বল পারফরম্যান্সে ফেলছে, যা গত মৌসুমে ট্রফি না জেতার পর পুনরায় আত্মবিশ্বাস গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সিটি দলের খেলোয়াড়দের ক্ষুধা ও তীব্রতা পুনরুদ্ধার হয়েছে কিনা তা এখন প্রশ্নের মুখে।
বডো/গ্লিম্টের এই জয় নরওয়ের ছোট শহরের গর্বের বিষয়, আর ম্যানচেস্টার সিটির জন্য এটি পুনর্বিবেচনার সময়, যেখানে কোচ ও খেলোয়াড়দের পরবর্তী ম্যাচে কৌশলগত পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।



