উত্তরা পশ্চিম থানার ১৪ নম্বর সেক্টর, ১২ নম্বর সড়কে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সাবেক সেনা সদস্য মাহবুব আলমের ওপর আক্রমণ ঘটে। দুইটি গাড়ি থামার পর একজন ব্যক্তি লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত হানে, এরপর পাঁচ‑ছয়জন অন্যদের সঙ্গে তাকে গুলি‑মারার মতো পিটিয়ে গুরুতর আঘাত করে। স্থানীয় লোকজন তাকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যায়, তবে চিকিৎসার পরেও তার মৃত্যু ঘটে।
মাহবুব আলমের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়, তবে তিনি উত্তরা পূর্ব থানার এলাকায় বসবাস করতেন এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের সন্ধান নেয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, মামলায় জড়িত দুই সন্দেহভাজন হলেন ল্যান্স কর্পোরাল খন্দকার ইমরান হোসেন এবং জাহিদুল ইসলাম (জনি) নামে পরিচিত গাড়ি চালক। উভয়কে একই দিনে গ্রেফতার করা হয়। জাহিদুল ইসলামকে গুলশান থেকে সন্ধ্যা ছয়টায় আটক করা হয়, আর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত্রি তিনটায় মাগুরা সদর উপজেলার ইছাখাদা এলাকায় ইমরান হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রকাশ পায়, হোসেনের সঙ্গে এক সময়ের পরিচয় ছিল হাসান শিকদার মেহেদীর। মেহেদি, যাকে ‘প্রতারক’ বলা হয়, পূর্বে কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেছিল, যার প্রতিশ্রুতি ছিল নামনির্বাচন ও ঋণ সুবিধা দেওয়ার। ঐ অর্থ সংগ্রহের জন্য মেহেদিকে অন্য পক্ষের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময়ই মাহবুব আলমের ওপর আক্রমণ সংঘটিত হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মঙ্গলবার দুই সন্দেহভাজনকে আদালতে উপস্থিত করেন এবং তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক এবং আরেকজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট জবানবন্দি রেকর্ড করেন। রেকর্ডিং সম্পন্ন হওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের কারাগারে পাঠানো হয়, তা প্রসিকিউশন পুলিশ এসআই শামীম হোসেন জানান।
অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও জবানবন্দি রেকর্ডের পাশাপাশি, মামলার আইনি দিকও স্পষ্ট হয়েছে। আদালতে স্বীকারোক্তি রেকর্ডের সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ইমরান হোসেন মোবাইল ফোনে দশ মাস আগে মেহেদীর সঙ্গে পরিচিত হন এবং মেহেদি নিজেকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করছিলেন। এই তথ্যগুলো মামলার মূল সূত্র হিসেবে কাজ করছে।
মাহবুব আলমের পরিবার ও স্থানীয় মানুষজন এই ঘটনার শোক প্রকাশ করেছে এবং ন্যায়বিচার দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার দাবি জানিয়েছে। পুলিশ ও আদালত উভয়ই মামলাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই ঘটনার পর, উত্তরা থানা এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একসঙ্গে কাজ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসাত্মক অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে সচেষ্ট।
মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, অভিযুক্তদের জবানবন্দি রেকর্ডের পর আদালতে তাদের পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হবে। তদন্তের অগ্রগতি ও নতুন কোনো তথ্য প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।



