অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডি জ্যাসি ট্যারিফের প্রভাবের কারণে পণ্যের মূল্যে বৃদ্ধি লক্ষ্য করছেন, যা গ্রাহকদের ব্যয়কে প্রভাবিত করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের ফলে বিক্রেতারা অতিরিক্ত খরচ বহন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
শুল্কের প্রয়োগের আগে, অ্যামাজন এবং তার বহু তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতা মূল্যের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য বড় পরিমাণে মজুদ সংগ্রহ করেছিল। তবে, সেই মজুদ শেষ পর্যন্ত গত শরতে শেষ হয়ে গিয়েছিল, ফলে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি দেখা দেয়।
মজুদ শেষ হওয়ার পর, বিক্রেতাদের মধ্যে খরচ বহনের পদ্ধতি ভিন্নভাবে প্রকাশ পেতে শুরু করে। কিছু বিক্রেতা বাড়তি খরচ গ্রাহকের দিকে স্থানান্তর করে দাম বাড়িয়ে দেয়, আবার কিছু বিক্রেতা বিক্রয় বাড়াতে এই খরচ শোষণ করে রাখে। আর কিছু বিক্রেতা উভয়ের মিশ্রণ ব্যবহার করে মধ্যম স্তরে দাম সামঞ্জস্য করে।
জ্যাসি বলেন, শুল্কের প্রভাব ধীরে ধীরে দামেই প্রবেশ করছে এবং এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও স্পষ্ট হবে। তিনি অতীতের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি আলাদা করে উল্লেখ করেন, যখন শুল্ক ঘোষণার পর প্রথম বছর তিনি জানিয়েছিলেন যে দাম বাড়বে না।
অ্যামাজন এখনো দাম কম রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে তিনি স্বীকার করেন যে কিছু ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি এড়ানো কঠিন হতে পারে। রিটেইল ব্যবসা সাধারণত মাঝারি এক অঙ্কের অপারেটিং মার্জিনে চলে, তাই খরচে ১০% বৃদ্ধি হলে শোষণের জায়গা সীমিত হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে বিক্রেতাদের জন্য অসীম বিকল্প নেই; তারা অতিরিক্ত খরচ কমাতে মূল্য বাড়াতে বাধ্য হতে পারে। জ্যাসি উল্লেখ করেন, “রিটেইল ব্যবসা উচ্চ মার্জিনের খেলা নয়, তাই খরচ বাড়লে দাম বাড়ানো ছাড়া অন্য পথ কমই থাকে।”
শুল্কের প্রভাব সত্ত্বেও, গ্রাহকরা বেশ স্থিতিস্থাপকতা দেখাচ্ছেন। অনেক ক্রেতা এখন সস্তা পণ্য বেছে নেওয়া, ছাড়ের সন্ধান করা এবং মূল্যের তুলনা করে কেনাকাটা করার দিকে ঝুঁকছেন।
কিছু গ্রাহক উচ্চ মূল্যের বিলাসবহুল পণ্য কেনা বিলম্বিত করছেন, ফলে প্রিমিয়াম সেগমেন্টে চাহিদা হ্রাস পেতে পারে। এই পরিবর্তন বাজারের চাহিদা কাঠামোতে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, শুল্কের ফলে সৃষ্ট মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে গ্রাহকের ক্রয় আচরণে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে, বিশেষ করে যখন বিকল্প পণ্য সহজলভ্য হয়। তবে, জ্যাসি উল্লেখ করেন যে গ্রাহকরা এখনও মূল্যের পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে সক্ষম, যদিও তাদের পছন্দের পণ্য পরিবর্তিত হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, শুল্কের ফলে অ্যামাজন ও তার বিক্রেতাদের মূল্য নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে, এবং গ্রাহকের ক্রয় প্যাটার্নও নতুন বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য করছে। ভবিষ্যতে শুল্কের প্রভাব কতটা গভীর হবে তা বাজারের প্রতিক্রিয়া এবং বিক্রেতাদের কৌশলের ওপর নির্ভর করবে।



