১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে এবং দেশের সর্বোচ্চ আইনসভার জন্য ভোটদান শীঘ্রই শুরু হবে। নির্বাচন কমিশনের সচিবালয় গত রাত্রি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোট ১,৯৬৭ প্রার্থী শেষ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
নামজোরি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে ২,৫৮৫টি নামজোরি পত্র নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হয়েছিল। এরপর নামজোরি যাচাই, রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের আপিল, এবং প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এই ধাপগুলো শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা নির্ধারিত হয়েছে।
নামজোরি প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল গতকাল, এবং এই সময়সীমার মধ্যে ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের নাম প্রত্যাহার করেছেন। প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অবশিষ্ট প্রার্থীরা চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পায়।
প্রত্যাহার এবং আপিলের পর চূড়ান্ত তালিকায় ১,৯৬৭ প্রার্থী অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা পূর্বের মোটের তুলনায় প্রায় দুইশো কম। এই সংখ্যা দেশের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার তীব্রতা এবং বিভিন্ন দল ও স্বাধীন প্রার্থীর অংশগ্রহণকে নির্দেশ করে।
নির্বাচন কমিশন আজ থেকে প্রতিটি প্রার্থীর জন্য নির্বাচনী চিহ্ন বরাদ্দের কাজ শুরু করবে। নির্বাচনী চিহ্নের বরাদ্দ প্রার্থীদের পরিচয় স্পষ্ট করতে এবং ভোটারদের জন্য সহজে চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে। চিহ্ন নির্ধারণের পর প্রার্থীরা তাদের প্রচারাভিযান চালু করতে পারবে।
প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি, যা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা। এই সময়ে দল ও প্রার্থীরা নীতি, কর্মসূচি ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি উপস্থাপন করবে। প্রচারণার সময়সীমা শেষ হবে নির্বাচনের ঠিক আগে, যাতে ভোটাররা পূর্ণ তথ্য পেতে পারে।
নামজোরি যাচাইয়ের সময় ৬৩৯ জন প্রার্থী রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। শুনানির পর ৪৩১ জন আপিল স্বীকার করে তাদের নাম পুনরায় তালিকায় যুক্ত হয়েছে। বাকি ২০৮ জনের আপিল প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, ফলে তারা তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
এই আপিল প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রত্যাখ্যাত আপিলের প্রার্থীরা আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না, যা তালিকাকে চূড়ান্ত ও নির্ভরযোগ্য করে তুলেছে।
প্রায় দুই হাজার প্রার্থীর অংশগ্রহণ দেশের বহুমুখী রাজনৈতিক দৃশ্যকে প্রতিফলিত করে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি সহ অন্যান্য দল এবং স্বাধীন প্রার্থীরা ভোটারদের কাছ থেকে সমর্থন সংগ্রহের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যে তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট নাম ও পার্টি সংক্রান্ত বিশদ এখনো প্রকাশিত হয়নি। এই তালিকা প্রকাশের পর ভোটারদের জন্য তথ্যের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।
নির্বাচন কমিশন শীঘ্রই চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা ও নির্বাচনী চিহ্নের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করবে, যা ভোটারদের জন্য তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। এছাড়া, ভোটার শিক্ষা ও সচেতনতা কর্মসূচি চালু করা হবে, যাতে নাগরিকরা সঠিকভাবে ভোট দিতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনের সকল ধাপ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসারে সম্পন্ন হবে, এবং কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সকল রাজনৈতিক শক্তি ও নাগরিককে আইনের সীমার মধ্যে থেকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে, এবং ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গৃহীত হবে। এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।



