দিল্লি ও ঢাকা উভয় শহরের ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে, ভারত সরকার বাংলাদেশে তার কূটনীতিকদের পরিবারিক পোস্টিং বাতিল করে ‘নন‑ফ্যামিলি’ পোস্টিং ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় নেওয়া হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে অবস্থিত পাঁচটি ভারতীয় মিশন—ঢাকার হাই কমিশন এবং চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটের চারটি সহকারী হাই কমিশন—এগুলোকে ‘নন‑ফ্যামিলি’ পোস্টিং হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এর অর্থ, কূটনীতিকদের পারিবারিক সদস্যদের মিশন থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে, তবে মিশনগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ চালিয়ে যাবে।
‘নন‑ফ্যামিলি’ পোস্টিংকে ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একই নিরাপত্তা স্তর পাকিস্তানের ‘নো চিলড্রেন’ পোস্টিংয়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যেখানে কেবল স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে থাকা অনুমোদিত। নিরাপত্তা উদ্বেগের পটভূমিতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিক টানাপড়েন এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহে উভয় দেশের মিশনে বিক্ষোভের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান শরীফ হাদী নিহত হওয়ার পর চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশনের বাইরে সহিংস বিক্ষোভের ঝড় দেখা দেয়। একই সময়ে, ভারতীয় ক্রিকেটার মুস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর বাংলাদেশ তার টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়, যা দুই দেশের ক্রীড়া ও রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই নিরাপত্তা পদক্ষেপের কারণ হিসেবে, বাংলাদেশে উগ্র ও চরমপন্থী গোষ্ঠীর হুমকি বাড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, এই হুমকিগুলি কূটনীতিকদের পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন করে তুলেছে। তাই, পরিবারিক পোস্টিং বাতিল করে কেবল কূটনীতিকদের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিবেশী দেশের এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক মিথস্ক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, তবে পারিবারিক সহায়তা ছাড়া কাজ করতে হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য মিশনের আশেপাশে অতিরিক্ত গার্ড এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গৃহীত হবে বলে অনুমান করা যায়।
দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এখন নিরাপত্তা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল। যদি নিরাপত্তা উদ্বেগ হ্রাস পায়, তবে পরিবারিক পোস্টিং পুনরায় অনুমোদিত হতে পারে। অন্যদিকে, যদি হুমকি অব্যাহত থাকে, তবে আরও কঠোর নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্তটি নির্বাচনী আলোচনার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। উভয় দেশের সরকারই মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্গঠন বা নতুন চুক্তির ভিত্তি হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ভারত বাংলাদেশে তার কূটনৈতিক মিশনের পরিবারিক পোস্টিং বাতিল করে ‘নন‑ফ্যামিলি’ পোস্টিং ঘোষণা করেছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় নেওয়া কঠোর পদক্ষেপ। মিশনগুলো পূর্ণ কার্যক্ষমতা বজায় রাখবে, তবে পারিবারিক সদস্যদের উপস্থিতি থাকবে না। এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কূটনৈতিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা নীতি এবং আসন্ন রাজনৈতিক ঘটনাবলীর ওপর দীর্ঘমেয়াদে স্পষ্ট হবে।



