জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রকাশিত সাময়িক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমান অর্থবছরের প্রথম অর্ধে রাজস্ব আদায়ে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪.১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার ২২৯ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রথম ছয় মাসে সংগ্রহের এই উত্থান পূর্ববর্তী অর্থবছরের প্রথম অর্ধের ১ লাখ ৬২ হাজার ২০৯ কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য। উভয় সময়ের পার্থক্য অর্থনীতির স্থবিরতা থেকে পুনরুদ্ধারের সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এনবিআর জানিয়েছে যে, বর্তমান সময়ে নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৩১ হাজার ২০৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ছিল। তবে বাস্তব সংগ্রহের তুলনায় ৪৫ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা কমে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
বাজেটের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই অর্থবছরে মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারিত, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ৯ শতাংশের সমান। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য এনবিআরকে ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আর অবশিষ্ট ৬৫ হাজার কোটি টাকা অন্যান্য উৎস থেকে আসবে।
অর্থবছরের মাঝামাঝি সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অতিরিক্ত ২৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সংশোধনের ফলে এনবিআরের সংগ্রহের লক্ষ্য ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকায় স্থাপিত হয়েছে।
রাজস্ব সংগ্রহের এই প্রবণতা দেশের আর্থিক ঘাটতি কমাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে থাকা পরিমাণ বাজেট ঘাটতি বাড়াতে পারে, যা আর্থিক নীতি সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করবে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, রাজস্ব সংগ্রহের ধারাবাহিক বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে পারে। কর সংগ্রহের উন্নতি সরকারী ব্যয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে, ফলে অবকাঠামো প্রকল্প ও সামাজিক সেবার জন্য তহবিলের প্রবাহ নিশ্চিত হবে।
তবে, পূর্ববর্তী অর্থবছরে জুলাই-ডিসেম্বরে গণঅভ্যুত্থান ও ক্ষমতার পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট অস্থিরতা আর্থিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করেছিল। সেই সময়ের অনিশ্চয়তা এখনো কিছু সেক্টরে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে রপ্তানি ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে।
অর্থনীতিবিদরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, যদি রাজস্ব সংগ্রহের গতি বজায় থাকে এবং লক্ষ্য পূরণের জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, কর নীতি পরিবর্তন বা অর্থনৈতিক ধীরগতি লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
ভবিষ্যৎ প্রবণতা নির্ধারণে মূল বিষয় হবে করদাতাদের সম্মতি এবং প্রশাসনিক দক্ষতা। এনবিআরের কার্যকরী সংগ্রহ প্রক্রিয়া, ডিজিটাল পেমেন্টের বিস্তার এবং ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স বাড়ানো এই লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, প্রথম অর্ধে রাজস্ব সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে থাকা পরিমাণ আর্থিক পরিকল্পনার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সরকারকে সংগ্রহ বাড়াতে এবং বাজেট ঘাটতি কমাতে কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।



