28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইলেকশন কমিশন জামাতে সাত নেতা-প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ জারি

ইলেকশন কমিশন জামাতে সাত নেতা-প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ জারি

জাতীয় পার্লামেন্টের ১৩তম নির্বাচন ও রেফারেন্ডাম ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হওয়ায়, নির্বাচন কমিশন (ইসিসি) সাতজন জামাত‑ই‑ইসলামি নেতা ও প্রার্থীর জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছে। এই পদক্ষেপটি পার্টির ১০ জানুয়ারি সিইসি‑কে জমা দেওয়া নিরাপত্তা অনুরোধের পর নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে নির্বাচনী পরিবেশে অশান্তি বাড়তে পারে, তাই কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে।

পার্টি ১০ জানুয়ারি সিইসি‑কে একটি চিঠি পাঠিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা চেয়েছিল, যেখানে নির্বাচনের সময়সূচি প্রকাশের পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার দাবি করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকার ও কমিশনকে নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা পরিবেশ সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে। এই আবেদনটি ইসিসি‑কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে, জামাত‑ই‑ইসলামি নেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

ইসিসি চিঠি পাওয়ার পর দ্রুত একটি নির্দেশ জারি করে, যাতে উল্লেখিত সাতজন নেতা-প্রার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হবে। নির্দেশে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, গার্ডের সংখ্যা, গাড়ি ও যোগাযোগের ব্যবস্থা ইত্যাদি স্পষ্ট করা হয়েছে। এছাড়া, স্থানীয় পুলিশ ও রাইফেল বিভাগকে সমন্বয় করে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা চাহিদা জানানো সাতজন নেতা-প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে জামাতের আমীর শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার, তিনজন নায়েব‑এ‑আমির সায়েদ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, এ.টি.এম. আজহারুল ইসলাম এবং মুজিবুর রহমান, এবং দুইজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ ও রফিকুল ইসলাম খান। এই ব্যক্তিবর্গের রাজনৈতিক প্রোফাইল ও নির্বাচনী ভূমিকা বিবেচনা করে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

জামাত‑ই‑ইসলামি চিঠিতে উল্লেখ করেছে, নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। তারা দাবি করে যে, সরকার ও ইসিসি উভয়েরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করে রাজনৈতিক নেতাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত। পার্টি আরও উল্লেখ করেছে যে, নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে রাজনৈতিক পরিবেশে হিংসা ও অশান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, ঘোষণার পর থেকে আটজন রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী নিহত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি। এছাড়া, বহুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে। এই ঘটনাগুলি রাজনৈতিক পরিবেশকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে আরও ক্ষতি হতে পারে, এটাই পার্টির উদ্বেগের মূল কারণ।

জামাত‑ই‑ইসলামি এই পরিস্থিতিকে “চিন্তাজনক” বলে উল্লেখ করে, এবং তৎক্ষণাৎ ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হওয়ার দাবি জানায়। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। নিরাপত্তা না থাকলে ভোটারদের অংশগ্রহণের ইচ্ছা কমে যেতে পারে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ইসিসি‑এর এই নির্দেশনা নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে, বাস্তবায়ন পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের সক্ষমতা ও সম্পদের প্রাপ্যতা নির্ধারণ করবে কতটা কার্যকর হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা সঠিকভাবে কার্যকর না হলে, নির্বাচনের সময় হিংসা ও অশান্তি পুনরায় বাড়তে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করবে।

ইসিসি এখন থেকে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবে। পার্টি এই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যবস্থা চাওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করবে। নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে, ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments