ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি এমমানুয়েল ম্যাক্রন মঙ্গলবার ডাভোসের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ইউরোপকে বুলি হুমকির সামনে নেমে যেতে দেবেন না, এমন বক্তব্য রাখেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের দাবি পূরণ না করলে কঠোর শুল্ক আরোপের হুমকির পর এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্পের হুমকি স্পষ্ট: যদি ইউরোপ গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ছেড়ে না দেয়, তবে ফরাসি ওয়াইন, শ্যাম্পেনসহ বহু ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ফেব্রুয়ারি ১ থেকে উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হবে। এই পদক্ষেপটি ইতিমধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোকে উদ্বেগে ফেলেছে।
ম্যাক্রন বলেন, ইউরোপ “শক্তিশালীর আইন” স্বীকার করে না এবং ভাসালিকরণে পরিণত হতে চায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপের স্বায়ত্তশাসন ও আইনের শাসন রক্ষা করা হবে, যদিও বিশ্বে নিয়মহীনতা বাড়ছে।
প্রয়োজন হলে ইউরোপ নিজেও কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিতে পারে, এমন সম্ভাবনা তিনি উন্মুক্ত করেন। তার মতে, শুল্কের মাধ্যমে রাজনৈতিক চাপে বাধা দেওয়া স্বাভাবিক নয়।
ম্যাক্রন স্পষ্ট করে বলেন, ইউরোপ বুলির সম্মুখে সম্মানকে অগ্রাধিকার দেবে এবং নৃশংসতার বদলে আইনের শাসনকে পছন্দ করবে। এই বক্তব্যে তিনি ট্রাম্পের কৌশলকে ‘বুলি’ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
বক্তৃতার সময় ম্যাক্রন এভিয়েটর সানগ্লাস পরেছিলেন; এলিসে প্যালেসের মতে, তা চোখে রক্তবাহী নলীর ফাটল রোধের জন্য ছিল। তার এই চেহারা মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও, তিনি মূল বিষয় থেকে সরে না গিয়ে শুল্কের বিরোধিতা করেন।
ট্রাম্পের পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ম্যাক্রনের ব্যক্তিগত বার্তা প্রকাশ করা, যা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এই অনিয়মের ফলে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও টানাপোড়েনের মুখে।
ট্রাম্প শনি বার শুয়োরের মতো শুল্কের ধারাবাহিকতা বাড়িয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের, বিশেষত ফ্রান্সকে লক্ষ্যবস্তু করে, গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণের জন্য চাপ তৈরি করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি দেশ এই পদক্ষেপকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে সমালোচনা করেছে।
ম্যাক্রন যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক শুল্ক আরোপকে ‘মৌলিকভাবে অগ্রহণযোগ্য’ বলে সমালোচনা করেন, বিশেষ করে যখন তা ভূখণ্ডীয় স্বায়ত্তশাসনের ওপর লিভারেজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তিনি এ বিষয়ে ইউরোপের একতাবদ্ধ অবস্থানকে জোর দেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা সপ্তাহান্তে ব্রাসেলসে জরুরি শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে গ্রিনল্যান্ড বিষয় এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া আলোচনা হবে। এই বৈঠকটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রাম্পের শুল্কের পরিমাণ প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ইউরো, যা পূর্বে ট্রেড চুক্তি স্বাক্ষরের পর স্থগিত করা হয়েছিল। ফেব্রুয়ারি ৬ তারিখে এই শুল্ক পুনরায় কার্যকর হতে পারে, যদি কোনো সমঝোতা না হয়। ম্যাক্রন ইউরোপকে তার অ্যান্টি‑সাবসিডি প্রক্রিয়া ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়া জানাতে উৎসাহিত করেন।
এই সংঘাতটি বাণিজ্যিক ও ভূ-রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। উভয় পক্ষই পরবর্তী পদক্ষেপে দৃঢ়তা বজায় রাখার সংকেত দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।



