চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে অবস্থিত অবৈধ গুহা‑বেসকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার সংকল্প র্যাবের মহাপ্রধান শাহীদুর রহমান প্রকাশ করেছেন। তিনি মঙ্গলবার পাটেঙ্গা র্যাব‑৭ সদর দফতরে মৃত র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনের জানাজা শেষে এই মন্তব্য করেন।
মোতালেব হোসেন, যিনি সেনাবাহিনীর নায়েব সুবেদার পদে র্যাবে ডেপুটি হিসেবে কাজ করছিলেন, দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছেন। তার শহীদত্ব র্যাবের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে এবং পরিবারকে র্যাবের পূর্ণ সমর্থন নিশ্চিত করা হয়েছে।
শাহীদুর রহমান জানান, দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত র্যাব পুরো নজর রাখবে। তিনি পরিবারকে সহানুভূতি জানিয়ে তাদের কল্যাণের জন্য র্যাবের বিশেষ তহবিল গঠন করার কথাও উল্লেখ করেন।
জঙ্গল সলিমপুরকে তিনি অবৈধ অস্ত্রধারী ও অপরাধী গোষ্ঠীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল বলে বর্ণনা করেন এবং সেখানে বসবাসকারী অবৈধ বাসিন্দা ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।
মধ্য‑২০২৪ থেকে র্যাব এই অঞ্চলে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপকে গ্রেফতার করেছে এবং বিশাল পরিমাণে অবৈধ অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে। এই ধারাবাহিক কার্যক্রমের ফলে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সোমবারের ঘটনার কথা উল্লেখ করে শাহীদুর বলেন, ওই দিন র্যাবের দল অবৈধ অস্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য হিলি এলাকায় গিয়েছিল, তবে নাগরিকদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে তারা গুলিবর্ষণ থেকে বিরত থাকে। এই বিচক্ষণতা নাগরিক ক্ষতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আক্রমণের পর র্যাবের বিশেষ টাস্কফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে। শাহীদুর জানান, ইতিমধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজন চিহ্নিত হয়েছে এবং শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে।
সিআরটি ভি ডি ফুটেজে দেখা যায়, র্যাবের সদস্যরা দুইটি সাদা মাইক্রোবাসে গিয়ে জঙ্গল সলিমপুরে পৌঁছায়। সেখানে একটি লাউডস্পিকারের মাধ্যমে সমাবেশ করা ভিড় হঠাৎ করে গুলি চালায় এবং গাড়িগুলোকে ধ্বংস করে দেয়।
ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, গুলি চালানোর পরিবর্তে ভিড়ের সদস্যরা গাড়ির জানালায় পাথর ও লাঠি নিক্ষেপ করে গাড়িগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই ধরনের সহিংসতা র্যাবের কর্মীদের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে।
র্যাবের তদন্ত বিভাগ ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত সব প্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতে উপস্থাপন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে এবং বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত র্যাব তদারকি চালিয়ে যাবে।
শাহীদুরের মতে, জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধ বসতি ও অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর উপস্থিতি আর সহ্য করা যাবে না; তাই আইনগত কাঠামোর মধ্যে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি র্যাবের সকল সদস্যকে সতর্কতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
অবশেষে, র্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলছেন, জঙ্গল সলিমপুরের নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার এবং শহীদ মোতালেব হোসেনের পরিবারকে যথাযথ সহায়তা প্রদানই র্যাবের অগ্রাধিকার। ভবিষ্যতে এই ধরনের সন্ত্রাসী গুহা আর না থাকায় পুরো চট্টগ্রাম অঞ্চলে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।



