ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির কাছের সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত শুল্ক চুক্তির অনুমোদন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপটি স্ট্রাসবুর্গে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই পরিকল্পনা, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টা এবং সম্ভাব্য নতুন শুল্ক হুমকির প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডে আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত প্রকাশ পেয়েছে, যা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বাজারে এই উত্তেজনা ত্বরান্বিত হয়েছে; আটলান্টিকের উভয় পাশে শেয়ার মূল্যে হ্রাস দেখা গেছে। ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে দুই দিন ধারাবাহিকভাবে ক্ষতি হয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তিনটি সূচক সকালের ট্রেডিংয়ে এক শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।
মুদ্রা বাজারেও পরিবর্তন স্পষ্ট। ডলার মানে তীব্র পতন ঘটার সঙ্গে সঙ্গে, ইউরো ডলারের তুলনায় ০.৮ শতাংশ বাড়ে এবং ১.১৭৪২ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে, পাউন্ড ডলারের তুলনায় ০.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১.৩৪৬ ডলারে স্থিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের বাণিজ্যিক উত্তেজনা জুলাই মাসে স্কটল্যান্ডের ট্রাম্পের গলফ কোর্সে স্বাক্ষরিত চুক্তির পর কিছুটা শিথিল হয়েছিল। ঐ চুক্তিতে ইউএসের ইউরোপীয় পণ্যের উপর শুল্ক ১৫ শতাংশে কমানো হয়, যা পূর্বে ট্রাম্পের এপ্রিল মাসে ঘোষিত ৩০ শতাংশ হুমকির তুলনায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস।
এর বদলে ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ইউরোপের অভ্যন্তরে এমন কিছু পরিবর্তন করার প্রতিশ্রুতি দেয়, যা আমেরিকান রপ্তানিকে উত্সাহিত করবে। তবে এই চুক্তি এখনও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়া চূড়ান্ত হয়নি।
শুক্রবার, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত শুল্ক হুমকির পরই জার্মানির প্রভাবশালী ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য মানফ্রেড ওয়েবার জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনুমোদন সম্ভব নয়। তার এই মন্তব্য চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়ায় নতুন বাধা সৃষ্টি করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় €৯৩ বিলিয়ন (প্রায় $১০৯ বিলিয়ন) মূল্যের আমেরিকান পণ্যের উপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা স্থগিত করেছিল। তবে এই স্থগিতের মেয়াদ ৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হতে চলেছে, ফলে যদি কোনো বর্ধিত সময় না দেওয়া হয়, তবে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপীয় শুল্ক কার্যকর হবে।
এই পরিস্থিতি ইউরোপীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা নিয়ে আসতে পারে; পার্লামেন্টের অনুমোদন না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের পুনঃমূল্যায়ন দরকার হবে, আর শুল্ক পুনরায় আরোপের ঝুঁকি বাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
অবশেষে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড নীতির অগ্রগতি উভয়ই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক বাজারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



