ডা. জাহির উদ্দিন আহমেদকে জামাত‑ই‑ইসলামী‑নেতৃত্বাধীন দশদলীয় জোটের পটুয়াখালী-৪ (কালাপাড়া‑রাঙ্গাবালি) আসনে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন করা হয়েছে। এই মনোনয়ন কেলাফাত মজলিসের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের মতে, জাহির পূর্বে রাঙ্গাবালি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন, যেখানে তিনি রাঙ্গাবালি উপজেলা আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতেন। তবে বর্তমানে তিনি এই সংযোগকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করছেন।
২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জাহির স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে “দোয়াত‑কলম” চিহ্ন ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিলোয়ার হোসেনকে ১৯ ভোটের পার্থক্যে পরাজিত করেন। এই জয় তাকে স্থানীয় স্তরে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক স্বরূপ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
২০২৪ সালে আবারও তিনি স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনের পূর্বে স্বল্প সময়ের জন্য রাঙ্গাবালি উপজেলা আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন, তবে পরে তা ত্যাগ করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত “নৌকা” চিহ্নের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানিয়ে দেন।
কেলাফাত মজলিসে যোগদান করার পর জাহির এখন “ঘড়ি” চিহ্নের অধীনে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পটুয়াখালী-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানানো হয়েছে।
জাহিরের দাবি অনুযায়ী, তিনি কখনো আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যানের পদে ছিলেন না। তিনি বলেন, “I was never an Awami League chairman. I was elected chairman as an independent candidate. An MP cannot award party posts. Positions are only valid through the district committee or a council. I never gave my consent.” তিনি এই অভিযোগকে রাজনৈতিক বিরোধী দলগুলোর কূটনৈতিক কৌশল বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
জোটের জেলা জামাত‑ই‑ইসলামী আমীর অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসানও জাহিরের প্রার্থিতার পক্ষে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “According to the alliance decision, Zahir is the candidate for the Patuakhali-4 constituency. We are cooperating with him.” এভাবে জোটের সমন্বয় ও সমর্থন স্পষ্ট হয়েছে।
এই প্রার্থিতার মাধ্যমে জামাত‑ই‑ইসলামী‑নেতৃত্বাধীন জোট পটুয়াখালী-৪ আসনে তার ঐতিহাসিক ভিত্তি ও স্বতন্ত্র ভোটার গোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে পার্টি ভিত্তিক ভোট ভাগকে পুনর্গঠন করতে চায়। জাহিরের স্বতন্ত্র পরিচয় ও পূর্বের আলাদা ভোটার সমর্থন তাকে জোটের জন্য কৌশলগত সুবিধা প্রদান করতে পারে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দলগুলো জাহিরের পূর্বের সংযোগকে পুনরায় উন্মোচন করে তার স্বতন্ত্রতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। এই বিতর্ক নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে উভয় দিকের ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর জন্য জাহিরের অস্বীকারকে রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে, বিশেষ করে রাঙ্গাবালি ও কালাপাড়া এলাকার স্থানীয় নেতাদের সমর্থনকে লক্ষ্য করে। একই সঙ্গে জোটের অভ্যন্তরে জাহিরের প্রার্থীতা কেলাফাত মজলিসের প্রভাব বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আসন্ন নির্বাচনের আগে পটুয়াখালী-৪ আসনের ভোটার তালিকায় জাহিরের নাম যুক্ত হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধি তীব্রতর হয়েছে। ভোটাররা এখন তার স্বতন্ত্রতা, পূর্বের অভিজ্ঞতা এবং জোটের সমর্থনকে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ভবিষ্যতে জোটের এই কৌশল সফল হলে অন্যান্য আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থন বাড়তে পারে, আর না হলে জোটের ভোট ভাগের লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।



