বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ২০ জানুয়ারি শ্রীযাত্রপুরের জাজিরা উপজেলায় বিএনপি আয়োজিত ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা অবনতির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রতিদিনই খারাপের দিকে এগোচ্ছে এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা জরুরি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী স্মরণে ক্যাম্পটি চালু করা হয়। রিজভী বলেন, “আমার মনে হচ্ছে নির্বাচন কমিশন এখনও সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারছে না। সবকিছু ঠিক করতে হলে কমিশনকে দৃঢ়হস্তে ও ন্যায়সংগতভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “কোনো পক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়লে মানুষের পুরনো আশঙ্কাই আবার সত্য প্রমাণিত হবে।”
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা সম্পর্কে রিজভী স্পষ্ট করে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব এমনভাবে পালন করা উচিত, যাতে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।” তবে তিনি স্বীকার করেন, বর্তমান সময়ে কমিশনের কাজকর্ম ও আচরণ নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠছে। এই প্রশ্নগুলোকে সমাধান না করলে নির্বাচনের ফলাফল ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
রিজভী অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, “গত ১৫–১৬ বছর ধরে মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এখন তারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে চায়।” তিনি এ বিষয়ে দায়িত্বের দিকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর তুলে ধরেন, “এই নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের।”
বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সকল উপস্থিতি রিজভীর বক্তব্যকে সমর্থন করে, দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেছিলেন।
রিজভীর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন, যদি নির্বাচন কমিশন স্বতন্ত্রভাবে কাজ না করে তবে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিরোধের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এছাড়া, আইনশৃঙ্খলার অবনতি নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা ভোটারদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারকে রিজভী স্মরণ করিয়ে দেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করে ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে দৃঢ়হস্তে ও ন্যায়সংগতভাবে কাজ করতে হবে,” যাতে জনগণের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার হয় এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া বৈধতা পায়।
এই বিবৃতি নির্বাচন কমিশনের বর্তমান কার্যক্রমের ওপর প্রশ্ন তুলেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। রিজভীর মন্তব্যের পর, কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য যে, শ্রীযাত্রপুরের এই ক্যাম্পটি শুধুমাত্র স্বাস্থ্যসেবা প্রদানই নয়, রাজনৈতিক আলোচনারও মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিজভীর বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচনের পূর্বে আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে জনমত গঠনে নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে।
ভবিষ্যতে, রিজভী এবং বিএনপি আশা প্রকাশ করেছে যে নির্বাচন কমিশন দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করবে। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, তবে জনগণের পুরনো আশঙ্কা দূর হবে এবং নির্বাচনের ফলাফল স্বীকৃত হবে।”
এই ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা একসাথে আলোচিত হচ্ছে। রিজভীর মন্তব্যের ফলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর জনসাধারণের নজর বাড়বে এবং নির্বাচনের পূর্বে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পদক্ষেপের দাবি তীব্র হবে।
সারসংক্ষেপে, রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্য শ্রীযাত্রপুরে অনুষ্ঠিত ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের আইনশৃঙ্খলা অবনতির উদ্বেগ ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে দৃঢ়হস্তে, ন্যায়সংগত এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে, ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারকে অর্পণ করেছেন।



