বিএনপি চেয়ারম্যান তারিক রাহমান আজ ঢাকা করাইল শিবিরে অনুষ্ঠিত মিলাদ ও দোয়া মহফিলে উপস্থিত হয়ে শিবিরবাসীর জন্য আধুনিক বাসস্থান এবং ফ্ল্যাটের মালিকানা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর তার নিজের বাড়ি স্বৈরশাসক সরকারের দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিল; এখন তিনি শিবিরের সন্তান হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়াতে চান।
এই অনুষ্ঠানে করাইলের টি অ্যান্ড টি কলোনি মাঠে দোয়া মহফিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে শিবিরবাসী মৃত বিএনপি চেয়ারপার্সন ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনা করেন। দোয়া মহফিলের প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন আবদুস সালাম, যিনি ঢাকা-১৭ নির্বাচনী কমিটির ইলেকশন স্টিয়ারিং কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী। তারিকের স্ত্রী জুবাইদা রাহমানও উপস্থিত ছিলেন।
তারিক রাহমান করাইলের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সংযোগ তুলে ধরে বলেন, “আমি এই এলাকার সন্তান।” তিনি শিবিরবাসীর আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, খালেদা জিয়া জনকল্যাণে জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং বিএনপির রাজনীতি সাধারণ মানুষের মঙ্গলের দিকে কেন্দ্রীভূত।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি করাইলের বাসিন্দাদের জন্য পরিকল্পিত আধুনিক বাসস্থান গড়ে তুলবে এবং দীর্ঘদিন শিবিরে বসবাসকারী মানুষদের ফ্ল্যাটের মালিকানা প্রদান করবে। এছাড়া তিনি “ফ্যামিলি কার্ড” চালু করার কথা বলেন, যা বিশেষ করে গৃহিণী ও মা-দের গৃহস্থালির কাজকে গৌরবময় করে তুলবে। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন এই উদ্যোগ সফল হয় এবং কৃষক কার্ডের মতো অন্যান্য প্রকল্পের জন্যও সমর্থন পান।
শিবিরের শিশুদের শিক্ষার, স্বাস্থ্যের এবং ক্রীড়া সুবিধার সমান অধিকার নিশ্চিত করার গুরুত্ব তিনি জোর দিয়ে বলেন। তিনি তুলনা করে বলেন, উচ্চমহলায় বসবাসকারী শিশুরা যে শিক্ষার সুযোগ পায়, করাইলের শিশুরাও তেমনই সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিবিরবাসীরাও তারিকের প্রতিশ্রুতি স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সমর্থন প্রকাশ করেন। তারিক রাহমানের এই ঘোষণার পর, শিবিরের বাসিন্দা ও সমর্থকরা আশা প্রকাশ করেন যে পরিকল্পিত বাসস্থান প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।
বিএনপি এই ঘোষণার মাধ্যমে করাইল শিবিরের সমস্যাগুলোকে রাজনৈতিক এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে শিবিরবাসীর ভোটের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। যদিও সরকারী পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে এই প্রতিশ্রুতি শিবিরের বাসিন্দা ও অন্যান্য দরিদ্র এলাকার মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, তারিক রাহমান করাইল শিবিরে আধুনিক বাসস্থান, ফ্ল্যাটের মালিকানা এবং পরিবারিক সহায়তা প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিবিরবাসীর জীবনের মানোন্নয়নের লক্ষ্য প্রকাশ করেছেন। তারিকের এই পদক্ষেপ শিবিরের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও রাজনৈতিক গতিপথে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।



