পটুয়াখালী-৩ (দাশমিনা‑গালাচিপা) আসন থেকে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থীর প্রত্যাহার শেষ তারিখ আজ শেষ হওয়ায়, স্বাধীন প্রার্থী ও প্রাক্তন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করে ভোটের দিন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন।
হাসান মামুনের এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে, বিএনপি‑নেতৃত্বাধীন জোটের প্রস্তাবিত প্রার্থী গোনো অধিকার পরিষদের সভাপতি নূরুল হক নূরও একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নূরুল হক নূর ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি অর্জন করেন, তবে দাশমিনা ও গালাচিপা এলাকায় দীর্ঘদিনের বিএনপি নেতৃবৃন্দ, কর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
হাসান মামুনের স্থানীয় ভিত্তি শক্তিশালী বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যা নূরের জন্য কঠিন প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে। দাশমিনা ও গালাচিপা উভয়ই তার জনপ্রিয়তা ও গ্রাসরুট সংযোগের কারণে তিনি ভোটারদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেতে পারেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা জানান, নূরের প্রার্থীতা ঘোষণার পরেও বেশ কিছু মূলধারার বিএনপি নেতা ও কর্মী এখনও হাসানকে সমর্থন করছেন। যদিও জোটের পক্ষ থেকে নূরকে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তবু স্থানীয় স্তরে হাসানের প্রতি সমর্থন বজায় রয়েছে।
এছাড়া, দাশমিনা ও গালাচিপা উপজেলায় সম্প্রতি বিএনপি কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় নূরের প্রচারণা জটিল হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন। কমিটি বিলুপ্তির ফলে স্থানীয় সংগঠনগত কাঠামোতে পরিবর্তন এসেছে, যা নূরের প্রচারাভিযানকে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার দাশমিনায় একটি সমাবেশে নূরুল হক নূর বলেন, “আমি কোনো প্রার্থীরকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি না,” এবং তিনি জোটের সমর্থনকে জোর দিয়ে বলেন যে তিনি জোটের একমাত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
হাসান মামুনও একই সমাবেশে তার অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “আমি আমার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করিনি। এলাকার সাধারণ মানুষের চাপে আমি পিছু হটতে পারি না। ভোটের দিন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব। আমি বিশ্বাস করি, মানুষ আমাকে আইনসভা সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবে এবং দাশমিনা‑গালাচিপা এলাকাকে দমন ও অবিচার থেকে মুক্ত করবে।” এই বক্তব্যে তিনি নিজের নির্বাচনী ম্যান্ডেটকে বৃহৎ ও শক্তিশালী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, পটুয়াখালী জেলার চারটি আসন থেকে মোট পাঁচজন প্রার্থী শেষ দিনেই তাদের নামাবলি প্রত্যাহার করেছেন। পটুয়াখালী‑১ আসনে জামায়াতে ইসলামী দলের মোহাম্মদ নাজমুল আহসান এবং খেলাফত মজলিশের মোহাম্মদ সায়েদুর রহমান প্রত্যাহার করেছেন। পটুয়াখালী‑১-এ আরেকজন প্রার্থী মোহাম্মদ আয়ুবের নামাবলিও শেষ মুহূর্তে ত্যাগ করা হয়েছে।
এই প্রত্যাহারগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে ঘটেছে এবং পটুয়াখালী জেলায় নির্বাচনী প্রতিযোগিতার গতিপথকে প্রভাবিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হাসান মামুনের প্রত্যাহার না করার সিদ্ধান্ত এবং নূরের জোটের প্রার্থী হিসেবে অবস্থান দুজনের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করবে। উভয় প্রার্থীর স্থানীয় সমর্থন ও সংগঠনগত কাঠামো কীভাবে ভোটে রূপান্তরিত হবে, তা আগামী সপ্তাহে নির্বাচনী প্রচারণার মূল দিক হয়ে থাকবে।
নির্বাচনের শেষ দিন পর্যন্ত উভয় প্রার্থীর প্রচারণা কেমন হবে এবং ভোটাররা কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপথ নির্ধারণের সম্ভাবনা রাখে।



