মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার মিরপুরের পীরের বাগ এলাকায় আল‑মুবারক মসজিদে জামায়াত‑ই‑ইসলামি ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে প্রচারপত্র বিতরণকে কেন্দ্র করে শারীরিক সংঘর্ষে হাতাহাতি ঘটেছে। দু’পক্ষের জুনিয়র স্তরের কর্মীরা একে অপরের ওপর আক্রমণ চালায়, ফলে কয়েকজন আহত হয়, তবে আহতদের অবস্থা গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশের মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনার মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল থেকে জানিয়েছেন, দুই দলের কর্মীদের মধ্যে কিল‑ঘুষি এবং ধাক্কা‑ধাক্কির ঘটনা ঘটলেও দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। হস্তক্ষেপের পর উভয় দলের সিনিয়র নেতা, সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।
হাতাহাতির মূল কারণ হিসেবে জামায়াতের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারপত্র বিতরণকে তুলে ধরা হয়েছে, যা বিএনপি কর্মীরা আপত্তি জানিয়ে বাধা দেয়। বিএনপি পক্ষের মতে, নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগে এমন বিতরণ করা আইনগতভাবে অনুমোদিত নয়। উভয় দলের মধ্যে কথোপকথনের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনাস্থল পীরের বাগ, যা ঢাকা‑১৫ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত, সেখানে জামায়াতের প্রার্থী দলের আমির শফিকুর রহমান এবং বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াই করছেন। নির্বাচনী দিন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, এবং বৃহস্পতিবার থেকে উভয় দলের প্রার্থী প্রচারাভিযান শুরু করতে পারবেন।
এই ঘটনার পর জামায়াত‑ই‑ইসলামি, বিএনপি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পারস্পরিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে লিপ্ত হয়েছে। আচরণবিধি, লেভেল প্লে ফিল্ড এবং অন্যান্য নির্বাচনী নীতিমালা নিয়ে উভয় দলই একে অপরের ওপর চাপ দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মিরপুরে ঘটিত হাতাহাতি রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে এবং নির্বাচনী পরিবেশকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে সিলি ম্যাটারে ভর্তি করা হয়েছে, তবে কোনো গুরুতর আঘাতের রিপোর্ট নেই। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল, এবং চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত উচ্চপদস্থ নেতারা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিনিধিরা পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য তৎপরতা দেখিয়েছেন। তারা উভয় দলের মধ্যে সমঝোতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন এবং নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার আগে আইনগত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পদ্ধতি অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই সংঘর্ষের ফলে নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সূচনায় কিছুটা বাধা সৃষ্টি হতে পারে। উভয় দলই এখন থেকে প্রচারপত্র বিতরণ ও জনসাধারণের সমাবেশের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে, যাতে পুনরায় এমন ঘটনা না ঘটে। এছাড়া, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তত্ত্বাবধান বাড়াতে পারে এবং নির্বাচনী সময়ে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
মিরপুরের এই ঘটনা দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবেশে এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যেখানে নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার আগে পার্টিগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের দিন নিকটে আসার সঙ্গে সঙ্গে উভয় দলই আইনগত কাঠামোর মধ্যে থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে, তবে পরিস্থিতি তীব্র হলে নিরাপত্তা সংস্থার হস্তক্ষেপ বাড়তে পারে।
সামগ্রিকভাবে, মিরপুরে জামায়াত ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে প্রচারপত্র বিতরণকে কেন্দ্র করে ঘটিত হাতাহাতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। উভয় দলের নেতারা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা এই ধরনের সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



