বাংলাদেশের টি২০ দলীয় ক্যাপ্টেন লিটন দাস মঙ্গলবার মিডিয়ার সামনে প্রশ্নের মুখে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দলটি বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনও নিশ্চিত নয়। তিনি প্রশ্নের মাঝখানে থামিয়ে “উত্তর দেওয়া নিরাপদ নয়” বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মিডিয়ার প্রশ্নকে প্রত্যাখ্যান করেন।
দাসের দল রঙপুর রাইডার্স, বিপিএলয়ের এলিমিনেটরে সিলেট টাইটান্সের কাছে তিন উইকেটের পার্থক্যে পরাজিত হওয়ার পর মিডিয়ার সম্মুখীন হয়। ম্যাচের ফলাফল নিয়ে আলোচনা দ্রুতই বিশ্বকাপের অগ্রিম সিদ্ধান্তের অনিশ্চয়তার দিকে সরে যায়।
বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ নিয়ে বোর্ডের অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে দাস “কোনো মন্তব্য নেই” বলে শুরু করেন। এরপর তিনি যোগ করেন, “আপনি কি নিশ্চিত আমরা বিশ্বকাপে যাব? না, আমি জানি না, আমরা একই স্তরে আছি। বিশ্বকাপ এখনো অনেক দূরে, আর আমরা এখনও নিশ্চিত নই যে আমরা অংশগ্রহণ করব কিনা।”
দাসের কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, খেলোয়াড়দের কাছে এখনও কোন স্পষ্ট নির্দেশনা পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, “প্রতিটি খেলোয়াড়ই এখনই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে, পুরো বাংলাদেশই এখনই অজানা পরিস্থিতিতে আছে।”
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গত সপ্তাহান্তে ঢাকায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এই বিষয়টি আলোচনা করার চেষ্টা করেছে, তবে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। বৈঠকের মূল বিষয় ছিল টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ নিয়ে মতবিরোধ।
বিসিবি ভারতকে আয়োজক হিসেবে না রেখে অন্য কোনো দেশকে স্থানান্তর করার অনুরোধ জানায়। এই অনুরোধের পেছনে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসি) কর্তৃক কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেএকেআর)কে মুস্তাফিজুর রহমানকে তাদের স্কোয়াড থেকে মুক্তি দিতে নির্দেশ দেওয়া।
মুস্তাফিজুর রহমানের এই মুক্তি নির্দেশটি দুই দেশের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এসেছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির ফলে ক্রিকেট ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়েছে।
বিসিবি এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা ও খেলোয়াড়দের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতকে আয়োজক হিসেবে না রাখার দাবি তুলে ধরেছে। তবে আইসিসি থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।
দাস উল্লেখ করেন, “খেলোয়াড়দের সম্মতি নেওয়া হয়নি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খেলোয়াড়দের মতামত চাওয়া উচিত ছিল, বিশেষ করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের ক্ষেত্রে।
বিশ্বকাপের দলীয় গোষ্ঠী, প্রতিপক্ষ দেশ বা ম্যাচের স্থান সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি। দাসের মতে, যদি গোষ্ঠী বা গন্তব্য সম্পর্কে স্পষ্টতা থাকত, তবে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি সহজ হতো।
এই অনিশ্চয়তা শুধুমাত্র দাসের নয়, পুরো দলের মনোভাবকে প্রভাবিত করেছে। তিনি বলেন, “যদি আমরা জানতাম কোন দেশকে মুখোমুখি হতে হবে, তবে আমাদের পরিকল্পনা ভিন্ন হতো। এখন সবকিছুই অজানা।”
বিশ্বকাপের সময়সূচি এখনও দূরে, এবং টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ নিয়ে চলমান আলোচনার ফলাফল শেষ পর্যন্ত কী হবে তা স্পষ্ট নয়। খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি, কৌশল এবং মানসিক অবস্থা সবই এই অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে আছে।
বিসিবি ও আইসিসি পরবর্তী সপ্তাহে পুনরায় আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। দাসের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশি ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সময়ের প্রয়োজন এবং খেলোয়াড়দের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এই পরিস্থিতিতে দলীয় ক্যাপ্টেনের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দাসের উন্মুক্ত বক্তব্য এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ভবিষ্যতে গৃহীত সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে পুরো ক্রিকেট সম্প্রদায়ই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে, এবং বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত সবকিছুই অপেক্ষারত।



