অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ২০ জানুয়ারি একটি আদেশ জারি করে জানায় যে, দেশের ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে কোনো সিদ্ধান্তের আগে আর্থিক অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
আদেশটি ১৯ জানুয়ারি অর্থ সচিব ড. মোহাম্মদ খায়েরুজ্জামান মজুমদার স্বাক্ষরিত এবং একই দিনে কার্যকর হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের অধীনে আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ও পুনঃঅর্পণের একটি হালনাগাদ কাঠামো গঠন করা হবে।
নতুন কাঠামো অনুসারে, নির্দিষ্ট ২৬টি সেক্টরে পরিকল্পনা, প্রকল্প অনুমোদন, তহবিল বরাদ্দ বা পুনর্বণ্টনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনা সরাসরি অর্থ বিভাগের কাছে পাঠাতে হবে। এই প্রক্রিয়া বাদ দিলে কোনো সিদ্ধান্তকে বৈধ বলে গণ্য করা হবে না।
অর্থ বিভাগ এই আদেশের মাধ্যমে আর্থিক ক্ষমতার ব্যবহারকে কেন্দ্রীভূত করতে চায়, যাতে প্রতিটি খাতে ব্যয় ও বিনিয়োগের প্রক্রিয়া একসাথে পর্যবেক্ষণ করা যায়। ফলে বাজেটের অপ্রয়োজনীয় বিচ্যুতি রোধে সহায়তা পাওয়া যাবে।
অপারেটিং বাজেটের অধীনে চলমান ব্যয় এবং উন্নয়ন বাজেটের অধীনে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প উভয়ের জন্যই এই নতুন কাঠামো প্রযোজ্য হবে। অর্থ বিভাগ উভয় বাজেটের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে আর্থিক ক্ষমতার বণ্টন নির্ধারণ করবে।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আর্থিক ক্ষমতার অর্পণ ও পুনঃঅর্পণ প্রক্রিয়া একবার গৃহীত হলে তা পরবর্তী কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। অর্থ বিভাগ প্রয়োজন অনুসারে অতিরিক্ত নির্দেশনা জারি করতে পারে, তবে বর্তমান কাঠামোই মূল নীতি হিসেবে থাকবে।
এই পরিবর্তনটি তৎক্ষণাৎ কার্যকর হওয়ায়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোকে তাদের পরিকল্পনা ও প্রকল্পের আর্থিক দিকগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে। এখন থেকে সব প্রস্তাবনা অর্থ বিভাগের অনুমোদন ছাড়া এগোতে পারবে না।
অর্থ বিভাগের দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপটি আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বাজেটের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিভাগটি এখন থেকে প্রস্তাবনা গ্রহণ, বিশ্লেষণ ও অনুমোদনের জন্য একটি কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়া চালু করবে।
মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর জন্য নতুন প্রক্রিয়া মানে অতিরিক্ত নথিপত্র প্রস্তুত করা এবং অনুমোদন প্রাপ্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চলা। এই পরিবর্তনটি তাদের কাজের গতি কিছুটা ধীর করতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্ববর্তী সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলোর ধারাবাহিকতা হিসেবে এই আদেশটি দেখা হচ্ছে। পূর্বে আর্থিক ক্ষমতার বণ্টন ও ব্যবহারে স্বচ্ছতা আনার জন্য নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের পরিপূরক হিসেবে এই নতুন কাঠামো কাজ করবে।
প্রতিটি খাতে আর্থিক অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে, সরকার বাজেটের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় রোধে এবং জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারে লক্ষ্য স্থির করেছে। এই নীতি বাস্তবায়নের ফলে আর্থিক ত্রুটি ও দুর্নীতির ঝুঁকি কমবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
পরবর্তী ধাপে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে তাদের পরিকল্পনা ও প্রকল্পের আর্থিক প্রস্তাবনা নির্ধারিত ফরম্যাটে প্রস্তুত করে অর্থ বিভাগের কাছে জমা দিতে হবে। অনুমোদন প্রাপ্তির পরই সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চালু হবে।
সারসংক্ষেপে, ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে আর্থিক অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা একটি কাঠামোগত পরিবর্তন, যা দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে এবং বাজেটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। এই নীতি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোর আর্থিক পরিকল্পনা নতুন নিয়মের অধীনে পুনর্গঠন হবে।



