মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উত্তরা শাখায় ২০২৫ সালের ২১ জুলাই ঘটিত বিমান দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হওয়া ১৩‑১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আব্দুর রহিম, দীর্ঘ ছয় মাসের তীব্র চিকিৎসার পর আগামী বুধবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাবেন।
দুপুর ১ টার দিকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি ফাইটার জেট মাইলস্টোন স্কুলের দুই তলা ভবনে ধাক্কা মারায়, ফলে ভবনটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং দগ্ধের শিকার হয়। শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি, দুর্ঘটনায় পাইলটসহ মোট ৩৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
আহত রোগীদের মধ্যে রহিমের পাশাপাশি মোট ৩৬ জন রোগী রয়েছে, যাঁদের সবকে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। শল্যচিকিত্সক ডা. শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন, “আগামীকাল দুপুর ১২টার দিকে আমরা শেষ রোগীকে ছাড়পত্র দেব।” এই ঘোষণার ভিত্তিতে রহিমের চিকিৎসা দলও একই সময়ে ছাড়পত্রের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রহিমের দগ্ধের তীব্রতা ছিল এমন যে ত্বকের গভীর স্তরে ক্ষতি হয়েছে, ফলে তীব্র ব্যথা, সংক্রমণ ঝুঁকি এবং তরল ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বহুবার শল্যচিকিত্সা করা হয়েছে। রোগীর বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে, চিকিৎসা দল বিশেষভাবে পুষ্টি সাপ্লিমেন্ট, ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্য অ্যানালজেসিক এবং সংক্রমণ রোধে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেছে।
দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে, রোগীকে শারীরিক থেরাপি, মানসিক সমর্থন এবং দগ্ধের পরবর্তী ত্বক পুনর্গঠনের জন্য ফিজিক্যাল থেরাপি প্রদান করা হয়েছে। বার্ন ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, দগ্ধের পর ত্বকের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীর হতে পারে, তবে সঠিক যত্ন ও নিয়মিত ফলো‑আপের মাধ্যমে কার্যকর ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।
দুর্ঘটনা ঘটার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৫ জনের মৃত্যু এবং ৩৬ জনের গুরুতর দগ্ধ হয়েছে। এ সকল রোগীর চিকিৎসা ব্যয়, পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যসেবা খরচের হিসাব এখনো সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে সরকারী তহবিল ও বীমা সুবিধা দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে।
চিকিৎসা শেষে রোগীদের ছাড়পত্র পাওয়া মানে নয় যে তারা সম্পূর্ণ সুস্থ; পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া বাড়ি ও কমিউনিটি স্তরে চলতে থাকে। বিশেষজ্ঞরা রোগী ও পরিবারকে পরামর্শ দিচ্ছেন, ঘরে পরিষ্কার পরিবেশ বজায় রাখা, ক্ষতস্থল নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা।
রহিমের পরিবার জানান, ছয় মাসের কঠিন সময়ের পর এখন তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরিবারকে স্বাস্থ্য কর্মীদের সমর্থন ও মানসিক সহায়তা প্রদান করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে রোগীর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া মসৃণ হয়।
এই ধরনের দগ্ধের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া যায় যে, উচ্চ-গতির বিমান চলাচল ও নগর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে বিমানবাহিনীর উড্ডয়ন পরিকল্পনা, নগর পরিকল্পনা এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার প্রোটোকল পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অবশেষে, রোগী ও পরিবারকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত ফলো‑আপ বজায় রাখতে বলা হচ্ছে। পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরামর্শ অনুযায়ী, সঠিক পুষ্টি, শারীরিক ব্যায়াম এবং মানসিক সমর্থন রোগীর দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। রোগীর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে অতিরিক্ত থেরাপি বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এই ঘটনার পর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি দগ্ধ রোগীর যত্নে ব্যবহৃত আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ও পুনর্বাসন কৌশলকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ আঘাতের শিকারদের দ্রুত সঠিক সেবা প্রদান করা যায়।



