পর্তুগালের প্রধান কোচ রবার্তো মার্তিনেজ ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য দল গঠন নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রোনালদোর অন্তর্ভুক্তি স্বয়ংক্রিয় নয়; শেষ পর্যন্ত তার পারফরম্যান্স ও দলের কৌশলগত প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে।
মার্তিনেজের মতে, “দলের স্বার্থে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, কে মাঠে নামবে আর কে না, তা পারফরম্যান্স, মনোভাব ও দলের চাহিদার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে রোনালদো দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও, সেরা ফলাফল নিশ্চিত করতে তাকে বেঞ্চে বসানোর সম্ভাবনা বাদ দেওয়া যায় না।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এখন ৪০ বছর বয়সী এবং আল-নাসর (সৌদি প্রো লিগ) ক্লাবে খেলছেন। বর্তমান মৌসুমে তিনি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৮ ম্যাচে ১৬ গোল করেছেন, যা তার ধারাবাহিক গোল স্কোরিং ক্ষমতা নির্দেশ করে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোনালদো ২২৬ ম্যাচে ১৪৩ গোলের রেকর্ড নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে পরিচিত।
কিন্তু মার্তিনেজ স্বীকার করেছেন, “রোনালদো আগের মতো নেই, এটা স্বাভাবিক। এখন তিনি একজন পজিশনাল স্ট্রাইকার, ফিনিশার হিসেবে কাজ করছেন। গত ৩০ ম্যাচে ২৫ গোল করা একজন খেলোয়াড় আমাদের জন্য আশীর্বাদ।” এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে কোচ রোনালদোর ভূমিকা পরিবর্তনশীল এবং তার ব্যবহার দলীয় কৌশলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
রোনালদোর ক্যারিয়ারে এমন মুহূর্তে প্রশ্ন ওঠে, যেমন ইউরো ২০২৪ চলাকালীন তার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক ছিল। তবে সেই সময়ের চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে তিনি আবারও জাতীয় দলে নিয়মিত স্থান পেয়েছেন। এখন ২০২৬ বিশ্বকাপ তার শেষ আন্তর্জাতিক বড় টুর্নামেন্ট হতে পারে, কারণ তিনি ২০০৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছেন। যদিও তিনি বহু ট্রফি জিতেছেন, বিশ্বকাপের ট্রফি এখনও তার সংগ্রহে নেই।
মার্তিনেজ রোনালদোর অভিজ্ঞতা ও নিবেদনকে উচ্চ প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “রোনালদোর নিবেদন, অভিজ্ঞতা ও মনোভাব তাকে আলাদা করে। মাঠে তিনি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ব্যস্ত রাখেন, অন্য খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ তৈরি করেন।” এই দৃষ্টিকোণ থেকে কোচের জন্য রোনালদোর উপস্থিতি কেবল গোল স্কোরিং নয়, বরং দলের সামগ্রিক গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ।
পর্তুগাল ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপে ‘কে’ গ্রুপে রয়েছে। দলটির প্রথম ম্যাচ ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে হোস্ট দেশকে মুখোমুখি হবে। পরবর্তী ম্যাচে টেক্সাসে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে এবং মায়ামিতে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে খেলবে। এই সূচি দলকে গ্রুপ পর্যায়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ টাস্কের মুখোমুখি করবে, যেখানে রোনালদোর ব্যবহার কৌশলগতভাবে নির্ধারিত হবে।
কোচ মার্তিনেজের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, রোনালদোর অন্তর্ভুক্তি স্বয়ংক্রিয় নয়; তাকে মাঠে নামাতে পারফরম্যান্স, শারীরিক অবস্থা এবং দলের সামগ্রিক পরিকল্পনা বিবেচনা করতে হবে। রোনালদো নিজে বলছেন, তিনি এখনও ফিনিশার হিসেবে গোল করার ইচ্ছা ও ক্ষমতা রাখেন, তবে তার ভূমিকা এখন আরও পজিশনাল এবং টিমের সমন্বয়কে সমর্থন করার দিকে ঝুঁকেছে।
পর্তুগালের ফ্যানদের জন্য এই সময়ে দু’টি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: রোনালদোর ফিটনেস ও গতি, এবং কোচের কৌশলগত সিদ্ধান্ত। যদি রোনালদো গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রধান ভূমিকা পালন করেন, তবে তার অভিজ্ঞতা ও গোল স্কোরিং ক্ষমতা দলের জন্য বড় সুবিধা হবে। অন্যদিকে, যদি কোচ তাকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করেন, তবে দলের তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ বাড়বে এবং নতুন কৌশল পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।
সারসংক্ষেপে, রোনালদোর ২০২৬ বিশ্বকাপের উপস্থিতি এখনো অনিশ্চিত, তবে তার অভিজ্ঞতা ও গোল স্কোরিং রেকর্ড দলকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখে রাখবে। কোচ মার্তিনেজের সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি এবং রোনালদোর বর্তমান ফর্ম উভয়ই পর্তুগালের বিশ্বকাপ যাত্রার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।



