22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যমাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনার শেষ রোগী আবিদুর রহমানের আজ মুক্তি

মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনার শেষ রোগী আবিদুর রহমানের আজ মুক্তি

মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বায়ু বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান ধসে যাওয়ার পর শেষ বেঁচে থাকা রোগী, ১২ বছর বয়সী আবিদুর রহমান, আজ হাসপাতাল থেকে ছাড় পাবেন। তিনি জাতীয় দাহ ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে নির্ধারিত চিকিৎসা শেষ করে বাড়ি ফিরবেন। এই পদক্ষেপটি ইনস্টিটিউটের ৩৬তম এবং শেষ রোগীর ছাড়ের সূচক।

আবিদুরের দাহের পরিমাণ ২২ শতাংশ ছিল, যা ত্বকের গভীর স্তরে প্রভাব ফেলেছিল। ইনস্টিটিউটের চিকিৎসা দল বহু ধাপে দাহের ত্বক প্রতিস্থাপন, শারীরিক থেরাপি এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে কাজ করেছে। শেষ পর্যায়ে তিনি শ্বাসযন্ত্রের জটিলতা ও মানসিক চাপের জন্য অতিরিক্ত যত্ন পেয়েছিলেন, তবে এখন তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।

এই দুর্ঘটনা ২১ জুলাই গত বছর ঘটেছিল, যখন একটি বায়ু বাহিনীর প্রশিক্ষণ জেট মাইলস্টোনের ক্যাম্পাসের মধ্যে অবতরণ করে ৩৬ জনের মৃত্যু ঘটায়। এর মধ্যে ২৮ জন ছাত্র এবং তিনজন শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই ৫৭ জন ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারী দাহ ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়।

ভর্তি রোগীদের মধ্যে ২০ জন পরবর্তীতে দাহের জটিলতা বা সংক্রমণের কারণে মারা যান। আরেকজনকে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার জন্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। অবশিষ্ট ৩৫ জন রোগী বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা শেষ করে ছাড় পেয়েছেন।

আবিদুরের ছাড়ের সঙ্গে সঙ্গে ইনস্টিটিউটের সব বেঁচে থাকা রোগী বাড়ি ফিরে গেছেন। ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর নাসির উদ্দিন এ বিষয়ে জানিয়েছেন, “আবিদুরের স্বাস্থ্যগত অবস্থা এখন স্থিতিশীল এবং তিনি বাড়ি যাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে রোগীর অতিরিক্ত জটিলতা থাকলেও সঠিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

দাহ ইনস্টিটিউটে রোগীর যত্নে ব্যবহৃত প্রধান পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে দাহের ত্বক প্রতিস্থাপন, অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপি এবং শারীরিক পুনর্বাসন। রোগীর বয়স ও দাহের পরিমাণ অনুযায়ী ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। এই ধরনের জটিল দাহের ক্ষেত্রে দ্রুত সঠিক হাইড্রেশন ও পেইন ম্যানেজমেন্ট রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়।

আবিদুরের ক্ষেত্রে বিশেষ করে শ্বাসযন্ত্রের জটিলতা ও মানসিক চাপের জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে তাকে মানসিক সমর্থন ও পরামর্শ প্রদান করা হয়েছিল, যা তার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের পুনরুদ্ধারে সহায়ক হয়েছে।

ইনস্টিটিউটের চিকিৎসা দল উল্লেখ করেছে যে, দাহের পরিমাণ ২০ শতাংশের বেশি হলে রোগীর বেঁচে থাকা হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু এবং আধুনিক পুনর্বাসন পদ্ধতি ব্যবহার করলে রোগীর পুনরুদ্ধার দ্রুত হয়। আবিদুরের সফল মুক্তি এই পদ্ধতির কার্যকারিতা প্রমাণ করে।

এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া যায় যে, জরুরি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সঠিক সমন্বয় দাহ রোগীর জীবনের গুণগত মানে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত চিকিৎসা সেবা ও মানসিক সমর্থন প্রদান করা উচিত।

আপনার মতামত কী? দাহ রোগীর পুনর্বাসনে মানসিক স্বাস্থ্য সেবার গুরুত্ব সম্পর্কে আপনার কী ধারণা?

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments