ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যামের ৫৫তম সংস্করণে ২ ফেব্রুয়ারি টিগার প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে ব্রাজিলের রেজিওনাল চলচ্চিত্র ‘ইয়েলো কেক’ প্রথমবারের মতো বিশ্বপ্রদর্শনী পাবে। এই কাজের পরিচালক টিয়াগো মেলো, যিনি পূর্বে ‘আজৌগু নাজারে’ নামে পরিচিত, গ্রামীণ ব্রাজিলের লোকজ সংস্কৃতি ও আধুনিক হুমকির সংযোগে নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করছেন।
মেলোর দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খনি শ্রমিক ও গবেষকদের জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তারা ইউরেনিয়ামকে কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করার ব্যর্থ পরীক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে পৃথিবীর শেষের দিকে ধাবিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সংগ্রাম করে। এই কল্পনাপ্রসূত দৃশ্যপটের মূল শত্রু হল এডেস এজিপ্টি মশা, যা ডেঙ্গু ও হলুদ জ্বরের জন্য পরিচিত।
ফেস্টিভ্যালের প্রচারমূলক উপকরণে ‘ইয়েলো কেক’কে রসালো, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণযুক্ত বিজ্ঞান কল্পকাহিনী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় পৌরাণিক কাহিনী, অন্ধকার হাস্যরস, শ্রমিকের কঠোর বাস্তবতা এবং রেডিওঅ্যাক্টিভিটির মিশ্রণ দেখা যায়। এই সংমিশ্রণটি দর্শকদেরকে ব্রাজিলের শ্রমিক শ্রেণীর মুখোমুখি হওয়া বৈশ্বিক পুঁজিবাদের চাপকে স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে সহায়তা করবে।
ফেস্টিভ্যালের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ছবিটি অঞ্চলের বাস্তব ঘটনাকে ভিত্তি করে তৈরি, আর কল্পনাপ্রসূত উপাদানগুলোকে ব্যবহার করে সামাজিক শক্তিগুলোকে দৃশ্যমান ও সহজবোধ্য করে তোলা হয়েছে। এই পদ্ধতি দর্শকদেরকে স্থানীয় বাস্তবতা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যে সম্পর্কটি সহজে বুঝতে সাহায্য করবে।
‘ইয়েলো কেক’এর প্রধান চরিত্রে রেজান ফারিয়া, ভ্যালমির দো কোকো, স্পেন্সার কলাহান এবং তানিয়া মারিয়া অভিনয় করেছেন। তাদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে চলচ্চিত্রটি ব্রাজিলের গ্রামীণ জীবনের সূক্ষ্মতা ও সংগ্রামকে জীবন্ত করে তোলার লক্ষ্য রাখে।
চলচ্চিত্রের উৎপাদন কাজটি উরানিও ফিলমেস, লুসিন্ডা প্রোডুকোয়েস এবং জারাগুয়া প্রোডুকোয়েসের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়েছে। এই তিনটি প্রোডাকশন হাউসের সহযোগিতায় ছবির প্রযুক্তিগত ও সৃজনশীল দিকগুলোকে সমৃদ্ধ করা হয়েছে।
চিত্রনাট্যটি টিয়াগো মেলো নিজে এবং আমান্ডা গুইমারেজ, আন্না ক্যারোলিনা ফ্রান্সিসকো, জেরোনিমো লেমোস ও গ্যাব্রিয়েল ডোমিংগেসের যৌথ রচনায় গড়ে উঠেছে। এই দলটি ব্রাজিলের সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর কাঠামোতে বুনে এক অনন্য গল্প তৈরি করেছে।
চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন গুস্তাভো পেসোয়া এবং ইভো লোপেস আরাউজো, যারা উরানিয়াম-সম্পর্কিত দৃশ্যগুলোকে বাস্তবসম্মত রঙে রূপান্তরিত করেছেন। এড্রিয়ান সাম্পাইয়ো সম্পাদনা কাজটি সম্পন্ন করে ছবির গতি ও টোনকে সুনির্দিষ্টভাবে সাজিয়েছেন।
প্রযোজনা দলে টিয়াগো মেলো, ক্যারোল ফেরেইরা, লিওনার্দো সেত্তে এবং লুইজ বারবোসা অন্তর্ভুক্ত। উরানিও ফিলমেস ছবির অধিকার পরিচালনা করছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে।
থিয়েটার হোলিভুড রিভিউ (THR) ‘ইয়েলো কেক’এর দুটি ক্লিপের একচেটিয়া প্রিমিয়ার অধিকার পেয়েছে। প্রথম টিজারটি ল্যাবরেটরির অভ্যন্তরে দৃশ্য তুলে ধরে, যেখানে হলুদ রঙের সুরক্ষামূলক স্যুট পরা বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন।
টিজারটি তীব্র সঙ্গীতের সঙ্গে মিলে দৃশ্যের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয় এবং ছবির শিরোনাম ‘ইয়েলো কেক’কে স্বাভাবিকভাবে উল্লেখ করে। এই সংক্ষিপ্ত দৃশ্যটি দর্শকদেরকে চলচ্চিত্রের মূল থিম—যৌথ বৈজ্ঞানিক ব্যর্থতা এবং সামাজিক বিপর্যয়—এর দিকে আকৃষ্ট করে।
‘ইয়েলো কেক’এর বিশ্বপ্রিমিয়ার রটারড্যামের টিগার প্রতিযোগিতায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলচ্চিত্রটি ব্রাজিলের গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতা ও বৈশ্বিক পুঁজিবাদের সংঘাতকে এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করবে।
এই কাজের মাধ্যমে টিয়াগো মেলো আধুনিক বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর সঙ্গে লোকজ সংস্কৃতির মিশ্রণ ঘটিয়ে ব্রাজিলের সামাজিক সমস্যাগুলোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে চান। রটারড্যামের মঞ্চে এই চলচ্চিত্রের উপস্থিতি ব্রাজিলীয় চলচ্চিত্র শিল্পের বৈশ্বিক স্বীকৃতি বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে।



