ঢাকা শহরের মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জাজের কোর্ট আজ এক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। এক্স-অ্যাডভাইজার আসিফ মাহমুদ শজিব ভূয়াইন-এর প্রাক্তন সহকারী প্রাইভেট সেক্রেটারি মোয়াজেম হোসেনের থাইল্যান্ডে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য ভ্রমণ অনুমতি চাওয়া পিটিশন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
কোর্টে উপস্থিত মোয়াজেমের সামনে বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ রায় দেন, যেখানে তিনি পিটিশনের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পিটিশন শুনানির সময় এ সি সি (অ্যান্টি-করাপশন কমিশন) এর পাবলিক প্রসিকিউটর দিলওয়ার জাহান রুমি পিটিশন প্রত্যাখ্যানের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
এই রায়ের পূর্বে একই আদালত গত বছর মে মাসে মোয়াজেমের উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এ সি সি এর সহকারী পরিচালক মিনু আক্তার সুমি ২৪ মে তারিখে দাখিল করা আবেদনপত্রে মোয়াজেমের বিরুদ্ধে সম্পদ লুট, টেন্ডার জালিয়াতি এবং ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়ার অস্বাভাবিকতা সহ একাধিক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এ সি সি একটি বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে জানে যে মোয়াজেম দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। যদি তিনি পালিয়ে যান, তবে তার বিরুদ্ধে গৃহীত তদন্তের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আদালতকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ফলে, আদালত মোয়াজেমের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লক করার নির্দেশও দেয়।
মে ২২ তারিখে এ সি সি তার সদর দফতরে মোয়াজেমকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ২১ এপ্রিল তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। একই মাসের ২৫ তারিখে আসিফ মাহমুদ শজিব ভূয়াইন মিডিয়ার সামনে জানান যে তিনি তার প্রাক্তন সহকারীকে নিয়ে এ সি সি-কে তদন্তের জন্য অনুরোধ করেছেন।
এখন আদালত মোয়াজেমের ভ্রমণ অনুমতি প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি পূর্বে আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখবে। এ সি সি তার তদন্ত চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর অতিরিক্ত আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে। আদালত ও এ সি সি উভয়ই ভবিষ্যতে মামলার অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের অধিকার রক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে।
এই রায়ের ফলে মোয়াজেমের থাইল্যান্ডে চিকিৎসা গ্রহণের পরিকল্পনা নিলম্বিত হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলায় নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী শুনানি ও তদন্তের ফলাফল দেশের আইনগত পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



