বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকার করাইল বস্তিতে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে উচ্চবিল্ডিং নির্মাণ ও ফ্ল্যাট সরবরাহের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানটি মহাখালীর টি অ্যান্ড টি মাঠে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এবং নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্য বহন করে।
করাইল বস্তি ১৯৯০‑এর দশকে তিনটি সরকারি সংস্থার ৯৩ একর জমি দখল করে গড়ে ওঠে। আজকের দিনে এই এলাকায় প্রায় ৪০,০০০ নিম্ন আয়ের পরিবার বাস করে, যা ঢাকার অন্যতম বৃহৎ বস্তি হিসেবে পরিচিত।
তারেক রহমান নির্বাচনী আচরণবিধি ও ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পরও, তিনি আল্লাহর রহমতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি জানি না এটি নির্বাচনী নীতিমালায় পড়বে কি না, তবে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
প্রার্থী হিসেবে তিনি ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে করাইল বস্তি তার নির্বাচনী এলাকার অংশ। পার্টি প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করবে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় উচ্চমানের ভবন নির্মাণের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে ছোট ফ্ল্যাট প্রদান করা হবে। তারেক রহমানের মতে, প্রতিটি বাসিন্দার নাম রেজিস্টার করে ফ্ল্যাটের মালিকানা তাদেরই হস্তান্তর করা হবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রেও তিনি উন্নয়নের কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, “বাচ্চাদের জন্য আধুনিক স্কুল ও খেলাধুলার জন্য উপযুক্ত মাঠ গড়ে তোলা হবে,” যা শিক্ষার গুণগত মান বাড়াবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্বাস্থ্যের দিক থেকে তিনি এলাকার মধ্যে ক্লিনিক ও হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা জানিয়ে দেন, যাতে বাসিন্দারা দূরে না গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন।
এই সব উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি করাইল বস্তিকে সমগ্রভাবে উন্নত করে একটি মডেল এলাকা গড়ে তুলতে চান, যেখানে বাসিন্দারা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া (মৃত) রুহের মাগফিরাতের নাম উল্লেখ করে তারেক রহমান তার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ থেকে স্থানীয় নেতারা এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে চিহ্নিত করে মন্তব্য করেন। তারা বলেন, সরকার ইতিমধ্যে বস্তি উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছে এবং ভোটের সময়ে অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়া স্বাভাবিক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, করাইলের মতো বস্তি এলাকায় বাস করা ভোটারগণ সরাসরি সুবিধা পেলে ভোটের প্রবণতা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই এই ধরনের অবকাঠামো প্রকল্প নির্বাচনী কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরবর্তী সময়ে বিএনপি তারেক রহমানের দল নাম নিবন্ধন, দরজায় দরজায় প্রচার এবং বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী কোডের অনুসরণ নিশ্চিত করবে এবং সকল প্রার্থীর প্রচার কার্যক্রমের উপর নজর রাখবে।



