উটাহের পার্ক সিটি এই বছর শেষবারের মতো সানড্যান্স উৎসবের মঞ্চে স্বাগত জানাচ্ছে। শহরের ঐতিহাসিক রোডে গ্রীষ্মের শেষের দিকে একাধিক স্বতন্ত্র শৈলীর ছবি প্রদর্শিত হবে, যা বক্স অফিস ও পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা বহন করে। এই শেষ উৎসবে উপস্থিত চলচ্চিত্রগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিচিত অভিনেতা-অভিনেত্রা এবং বিশিষ্ট পরিচালকরা একত্রিত হয়েছেন।
প্রথমে উল্লেখযোগ্য হল কাসপার কেলির পরিচালিত হরর-থ্রিলার, যেখানে ক্রিস্টিন মিলিওটি, ডেলেনি কুইন এবং টফার গ্রেস প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন। এই ছবির পেছনে র্যাফেল মার্গুলেস ও জে.ডি. লিফশিটজের প্রযোজনা রয়েছে, যারা পূর্বে ‘বার্বারিয়ান’ ও ‘কম্প্যানিয়ন’ এর জন্য পরিচিত। হরর শাখার সাম্প্রতিক সানড্যান্স বিক্রয় ‘টুগেদার’ ও ‘ইটস হোয়াটস ইনসাইড’ এর মতো সফল হয়েছে, তাই এই কাজটিও একই তালিকায় স্থান পেতে পারে। ছবিতে কিগান-মাইকেল কি, মাইকেল শ্যানন এবং প্যাটন ওসওয়াল্টও অংশ নেন, এবং এটি একটি শিশুর টিভি শো থেকে পালানোর গল্প বলে।
দ্বিতীয় ছবিটি র্যাচেল ল্যাম্বার্টের পরিচালনায়, যেখানে ক্রিস পাইনের সঙ্গে জেনি স্লেট অভিনয় করছেন। গল্পটি এক বিচ্ছিন্ন পিতার চারপাশে ঘোরে, যিনি চিকিৎসকের কাজের পাশাপাশি উদ্বিগ্ন কন্যার যত্ন নেন, আর হঠাৎ তার পুরনো হাইস্কুলের প্রেমিকা ফিরে আসে। এই ধরণের হৃদয়স্পর্শী ড্রামেডি সানড্যান্সে দীর্ঘদিনের সাফল্য অর্জন করেছে, এবং এই কাজটিও দর্শকদের মন জয় করার সম্ভাবনা রাখে। ছবির বিক্রয় প্রতিনিধিত্ব করে ইউটিএ ও রেঞ্জ এজেন্সি।
ডেভিড ওয়েইনের পরিচালিত আরেকটি কমেডি ছবিতে জোন হ্যাম, জোই ডিউচ এবং জন স্লাটারি মুখ্য ভূমিকায় আছেন। এই রসিকতা পূর্ণ চলচ্চিত্রে মিডওয়েস্টের এক কনে (ডিউচ) তার বাগদত্তা বিয়ের আগে তার নিজের সেলিব্রিটি ‘হল পাস’ খুঁজে বের করার চেষ্টা করে, যখন বাগদত্তা অন্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলেছে। কেন মারিনো সহ-লেখক ও অভিনেতা হিসেবে কাজ করছেন, এবং ছবির বিক্রয় পরিচালনা করে ডাবলুএমই ও সিএএ।
ক্যাথি ইয়ানের পরিচালিত শেষ ছবিতে জেনা অর্টেগা এবং ন্যাটালি পোর্টম্যান প্রধান চরিত্রে উপস্থিত। এই কাজটি ধনী সমাজের প্যারোডি, যা ‘দ্য মেনু’ ও ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’ এর মতো শোয়ের ধারাকে অনুসরণ করে, তবে নতুন প্রজন্মের দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে। জেনা অর্টেগা, যাকে জেন জেনারেশন বলে পরিচিত, তার সঙ্গে ন্যাটালি পোর্টম্যানের সংমিশ্রণ দর্শকদের নতুন স্বাদ দেবে।
উল্লেখযোগ্য যে, এই সব চলচ্চিত্রই পার্ক সিটির শেষ সানড্যান্স উৎসবে একসাথে প্রদর্শিত হবে, যা শহরের সংস্কৃতি ও শিল্পের সমাপ্তি চিহ্নিত করে। চলচ্চিত্রগুলো বিভিন্ন থিম—হরর, ড্রামেডি, কমেডি ও সামাজিক ব্যঙ্গ—কে একত্রিত করে, ফলে দর্শকদের জন্য বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা নিশ্চিত হয়। উৎসবের আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে এই শেষ মঞ্চে অংশগ্রহণকারী চলচ্চিত্রগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং পরবর্তী পুরস্কার চক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উটাহের পার্ক সিটি এখনো সানড্যান্সের ঐতিহ্যকে শেষ পর্যন্ত বজায় রাখছে, এবং এই শেষ উৎসবের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অভিনেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি হচ্ছে। দর্শকরা এই সুযোগে বিশ্ববিখ্যাত তারকাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করার পাশাপাশি, নতুন গল্পের স্বাদ নিতে পারবেন।



