ঢাকা সেক্রেটারিয়েটে মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান দেশের চলমান এলপিজি ঘাটতি রমজানের আগেই কাটিয়ে উঠবে বলে দৃঢ় আশ্বাস দেন। তিনি সরকার ও এলপিজি অপারেটরদের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে চলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে উল্লেখ করেন, যাতে রমজান ও জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে কোনো সরবরাহ সংকট না দেখা দেয়।
বৈঠকে এলপিজি অপারেটর সংস্থাগুলোও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে, রোজার আগেই বাজারের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে। তারা জানায়, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক অস্থিরতার ফলে এলপিজি আমদানিতে কিছুটা বাধা সৃষ্টি হয়েছে, তবে অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে এমন কোনো দাবি তারা প্রত্যাখ্যান করে।
উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বৈঠকে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশ দেন, রমজান ও নির্বাচনের সময় এলপিজি সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকে তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ও অপারেটরদের ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখে আমদানি পরিকল্পনা ও বিতরণ নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা বাড়ানো হবে।
অপারেটর সংস্থাগুলো জানায়, জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মোট ১,৬৭,৬০০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণ হলে বর্তমান সংকটের বেশিরভাগ দিক হ্রাস পাবে এবং বাজারে সরবরাহের ঘাটতি কমে যাবে। তারা আরও উল্লেখ করে, লক্ষ্য অর্জনের জন্য অতিরিক্ত কন্টেইনার ও লজিস্টিক ব্যবস্থা গৃহীত হচ্ছে।
বৈঠকে জ্বালানি বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা সমন্বিত নীতি নির্ধারণের গুরুত্ব ও বাজার পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, যাতে সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো অপ্রত্যাশিত ব্যাঘাত না ঘটে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি আমদানি লক্ষ্য সময়মতো পূরণ হয়, তবে রমজানের আগে গৃহস্থালির গ্যাস সিলিন্ডার মূল্যে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। বর্তমান বাজারে গ্যাসের চাহিদা রমজান মাসে বাড়ে, তাই সরবরাহের সময়মত পৌঁছানো ভোক্তাদের জন্য মূল্যের অস্থিরতা কমাবে। এছাড়া, অপারেটরদের অতিরিক্ত স্টক বজায় রাখার পরিকল্পনা মূল্যস্ফীতি দমন করতে সহায়ক হবে।
তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিবেশের অনিশ্চয়তা এখনো ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোর উৎপাদন সীমাবদ্ধতা, শিপিং কন্টেইনারের ঘাটতি এবং জ্বালানি মূল্যের বৈশ্বিক ওঠানামা সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলতে পারে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ও অপারেটরদের দ্রুত বিকল্প সরবরাহ উৎস অনুসন্ধান ও লজিস্টিক চ্যানেল বৈচিত্র্যকরণ প্রয়োজন।
সামগ্রিকভাবে, সরকারী তদারকি ও অপারেটরদের সমন্বিত প্রচেষ্টা রমজান ও নির্বাচনের সময় এলপিজি ঘাটতি না থাকার লক্ষ্যকে সমর্থন করছে। লক্ষ্য পূরণে অগ্রগতি হলে গৃহস্থালির গ্যাস ব্যবহার স্বাভাবিক হবে, বাজারে অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধি রোধ হবে এবং ভোক্তাদের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে। ভবিষ্যতে সরবরাহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদী আমদানি চুক্তি ও দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর নীতি প্রণয়ন করা জরুরি।



