ইন্ডিয়ার এআই‑ভিত্তিক কোডিং প্ল্যাটফর্ম এমার্জেন্ট সম্প্রতি ৭০ মিলিয়ন ডলার সিরিজ বি তহবিল সংগ্রহ করেছে, যার ফলে কোম্পানির পোস্ট‑মানি মূল্যায়ন ৩০০ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। এই তহবিলের প্রধান বিনিয়োগকারী হল সফটব্যাঙ্কের ভিশন ফান্ড ২ এবং খোসলা ভেঞ্চারস, আর প্রোসাস, লাইটস্পিড ভেঞ্চার পার্টনার্স, টুগেদার এবং ওয়াই কম্বিনেটরও অংশগ্রহণ করেছে। তহবিল সংগ্রহের তথ্য সূত্রের মাধ্যমে টেকক্রাঞ্চে প্রকাশিত হয়েছে।
সিরিজ বি রাউন্ডের আগে এমার্জেন্ট মাত্র চার মাস আগে ২৩ মিলিয়ন ডলার সিরিজ এ তহবিল পেয়েছিল, ফলে মোট তহবিল সংগ্রহের পরিমাণ সাত মাসের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই দ্রুত আর্থিক বৃদ্ধি স্টার্টআপের বাজারে প্রবেশের গতি এবং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে নির্দেশ করে।
কোম্পানি দাবি করে যে বর্তমানে তার বার্ষিক পুনরাবৃত্তি রাজস্ব (ARR) প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার এবং ব্যবহারকারী সংখ্যা ৫ মিলিয়নেরও বেশি, যা ১৯০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। লক্ষ্য হল ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে ARRকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের উপরে নিয়ে যাওয়া, যা কোম্পানির বৃদ্ধির পরিকল্পনার মূল অংশ।
এমার্জেন্টের প্ল্যাটফর্ম এআই এজেন্ট ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের পূর্ণ‑স্ট্যাক ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডিজাইন, নির্মাণ, পরীক্ষা এবং ডিপ্লয় করতে সহায়তা করে। এই সেবা বিশেষভাবে উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য তৈরি, যারা বড় ইঞ্জিনিয়ারিং দল গঠন না করেও পণ্য বাজারে আনতে চান। এআই‑সাহায্যপ্রাপ্ত কোডিং টুলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা প্রোগ্রামিংয়ের গভীর জ্ঞান ছাড়াই অ্যাপ তৈরি করতে পারে।
প্রতিষ্ঠাতা মুখুন্দ ঝা উল্লেখ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং ভারতসহ প্রধান বাজারে চাহিদা অব্যাহতভাবে বাড়ছে, এবং নতুন মোবাইল অ্যাপ নির্মাণ সেবার গ্রহণযোগ্যতা বিশেষভাবে শক্তিশালী। এই সেবাটি ব্যবহারকারীদের দ্রুত মোবাইল অ্যাপ তৈরি ও প্রকাশের সুযোগ দেয়, যা স্টার্টআপ ও ছোট ব্যবসার জন্য সময় ও খরচের সাশ্রয় করে।
যদিও কোম্পানির হেডকোয়ার্টার সান ফ্রান্সিসকোতে, তবে কর্মচারীদের বেশিরভাগই—৭৫ জনের মধ্যে ৭০ জন—বেঙ্গালুরুতে কাজ করেন। এই দুই শহরে নিয়োগের গতি তীব্র, এবং উভয় দেশের টেকনোলজি ও সেলস বিভাগে নতুন প্রতিভা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এমার্জেন্টের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লভেবল, কার্সর এবং রিপ্লিটের মতো এআই‑সহায়িত কোডিং প্ল্যাটফর্ম উল্লেখ করা যায়, যেগুলোও প্রারম্ভিক পর্যায়ে দ্রুত বড় ব্যবসায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই কোম্পানিগুলো একইভাবে ব্যবহারকারীদের কম কোডিং দক্ষতা দিয়ে অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের সুযোগ দেয়, ফলে বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা গড়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআই‑চালিত কোডিং টুলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের খরচ কমিয়ে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে। এমার্জেন্টের তহবিল সংগ্রহ এই প্রবণতার প্রতিফলন, এবং বিনিয়োগকারীরা এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে উচ্চ মূল্যায়ন করছে। কোম্পানির লক্ষ্য হল এআই‑ভিত্তিক কোডিংকে আরও সহজলভ্য করে, যাতে ছোট ব্যবসা ও স্টার্টআপগুলো দ্রুত ডিজিটাল পণ্য তৈরি করতে পারে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারে।



