শঙ্কর‑এহসান‑লয় ত্রয়ী মলয়ালম চলচ্চিত্র ‘চথা পাচা – দ্য রিং অফ রোডিজ’‑এর সঙ্গীত রচনার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এই ভাষার সিনেমায় প্রবেশ করছে। ছবিটি শিহান শৌকাতের প্রযোজনায় এবং মোহনলালের ভাগ্নে অধবৈথ নায়ারের পরিচালনায় তৈরি, যা একসাথে উচ্চশক্তির ক্রীড়া-শৈলীর বিনোদন ও মানবিক গল্পকে একত্রিত করেছে।
হিন্দি চলচ্চিত্রের সুরের ইতিহাসে শঙ্কর‑এহসান‑লয় নামটি দীর্ঘদিনের স্বীকৃতি পেয়েছে। তারা ‘কোয়ান্টাম’, ‘দিলওয়াল’ ও ‘রকস্টার’ সহ অসংখ্য হিট গানের মাধ্যমে দেশের সঙ্গীত জগতে নিজস্ব ছাপ রেখে গেছেন। এখন এই ত্রয়ী মলয়ালমের সমৃদ্ধ সুরধারা ও লোকসঙ্গীতের সঙ্গে মিশে নতুন সুরের সন্ধান করছে।
মলয়ালম সিনেমায় প্রথম প্রবেশের এই পদক্ষেপটি দু’টি শিল্পের সংযোগের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দি ও মলয়ালমের ভিন্নতায় গড়ে ওঠা সুরের রঙকে একত্রিত করে তারা দু’টি ভাষার শ्रोतাদের জন্য এক নতুন শোনার অভিজ্ঞতা তৈরি করতে চায়।
‘চথা পাচা – দ্য রিং অফ রোডিজ’ একটি অনন্য ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে প্রাক্তন কারাগার বন্দীদের দলকে কেন্দ্র করে একটি WWE‑স্টাইলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা দেখানো হয়েছে। তীব্র অ্যাকশন, রঙিন চরিত্র এবং গভীর মানবিক দ্বন্দ্বের মিশ্রণই ছবির মূল আকর্ষণ।
সঙ্গীতের দিক থেকে ত্রয়ী ছবির কাঁচা, তীব্র পরিবেশকে সুরের মাধ্যমে প্রকাশ করতে চেয়েছে। তারা গল্পের রিদম ও চরিত্রের আবেগকে সঙ্গীতের ছন্দে গড়ে তোলার জন্য স্থানীয় বাদ্যযন্ত্র ও আধুনিক সাউন্ডটেকনোলজি দুটোই ব্যবহার করেছে। ফলে সৃষ্ট সাউন্ডট্র্যাকটি ছবির গতি ও মেজাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি ত্রয়ীর স্বতন্ত্র স্বরও বজায় রেখেছে।
শঙ্কর মহাদেবন ছবির সঙ্গীত প্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্যে জানান, মলয়ালমের সমৃদ্ধ সুরের ঐতিহ্য তাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়েছে এবং ‘চথা পাচা’র উচ্ছল ও মাটির গন্ধযুক্ত চরিত্রগুলোকে সুরের মাধ্যমে তুলে ধরতে তারা নতুন রঙের চেষ্টা করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ছবির গল্পের তীব্রতা ও চরিত্রের গভীরতা তাদের সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মলয়ালমের সঙ্গীত ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের এবং এতে লোকগান, ক্লাসিক্যাল ও আধুনিক ধারার সমন্বয় দেখা যায়। শঙ্কর‑এহসান‑লয় এই ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে, তবে তাদের নিজস্ব সঙ্গীত দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করে একটি সমসাময়িক সাউন্ড তৈরি করেছে। ফলে শ্রোতারা পুরাতন ও নতুনের মিশ্রণ অনুভব করবে।
প্রযোজক শিহান শৌকাত ছবির জন্য একটি বিস্তৃত সাউন্ডস্কেপ তৈরি করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যেখানে পটভূমি সঙ্গীতের পাশাপাশি চরিত্রের থিম গানও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পরিচালক অধবৈথ নায়ার ছবির দৃশ্যমানতা ও সঙ্গীতের সমন্বয়কে গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, এটি দর্শকের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
ফ্যানদের মধ্যে ইতিমধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শঙ্কর‑এহসান‑লয়ের সঙ্গীতের প্রতি তাদের ভালোবাসা এবং মলয়ালমের নতুন রূপের প্রত্যাশা একসাথে মিলিয়ে ছবির প্রি-রিলিজ ইভেন্টে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছবির টিজার ও সঙ্গীতের ছোট অংশ প্রকাশের পর ভক্তরা মন্তব্যে সুরের তাজা স্বাদকে প্রশংসা করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, এই সহযোগিতা দু’টি শিল্পের মধ্যে সেতু গড়ে তুলবে এবং ভবিষ্যতে আরও ক্রস‑ওভার প্রকল্পের সম্ভাবনা বাড়াবে। মলয়ালমের সঙ্গীত বাজারে হিন্দি সুরকারদের অংশগ্রহণ নতুন ধারার সূচনা করতে পারে, যা উভয় ভাষার শিল্পী ও শ्रोतাদের জন্য সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।
‘চথা পাচা – দ্য রিং অফ রোডিজ’ শীঘ্রই থিয়েটারে মুক্তি পাবে এবং শঙ্কর‑এহসান‑লয়ের সঙ্গীতের মাধ্যমে দর্শককে নতুন রঙের সাউন্ড অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্য রাখে। ছবির সঙ্গীতের মাধ্যমে তারা যে সৃজনশীল যাত্রা শুরু করেছে, তা মলয়ালমের সঙ্গীত ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে শঙ্কর‑এহসান‑লয় শুধুমাত্র হিন্দি সঙ্গীতের সীমানা ছাড়িয়ে মলয়ালমের সুরের জগতে প্রবেশ করেনি, বরং দু’টি সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটিয়ে একটি তাজা সঙ্গীতিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে। দর্শক ও শ্রোতারা এই সংমিশ্রণকে স্বাগত জানাবে এবং ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত প্রকল্পের প্রত্যাশা করবে।



