জাতীয় পার্টি (জে.পি.) জিএম কাদেরের তত্ত্বাবধানে আজ ঢাকা শহরের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ১৯৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকাটি নির্বাচন কমিশনের পর্যালোচনা ও আপিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত হয়। পার্টির সেক্রেটারি জেনারেল শামীম হায়দার পাটওয়ারি নামগুলো পাঠ করে, যেখানে পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালিকায় দেখা যায় জিএম কাদের রংপুর-৩ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, শামীম গাইবান্ধা-১ ও ৫ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। প্রাক্তন আইনসভা সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ থাকুরগাঁও-৩ থেকে, মোশিয়ুর রহমান রাঙ্গা লালমনিরহাট-১ থেকে, ফখরুল ইমাম ময়মনসিংহ-৮ থেকে এবং গোলাম কিবরিয়া টিপু বরিশাল-৩ থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
সম্মেলনের সময় জিএম কাদের উল্লেখ করেন, “এই রেফারেন্ডাম সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক” এবং ভোটারদের সরকারকে প্রত্যাখ্যান করে ‘না’ ভোট দিতে আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে “ভূত মামলা” দায়ের করে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কাদেরের মতে, পার্টির তিনজন প্রার্থী জেলখানায় থেকে বহু মামলার মুখোমুখি হয়ে নির্বাচনে লড়াই করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় পার্টি জুলাই আন্দোলনের শুরুর থেকেই সক্রিয় সমর্থন প্রদান করলেও এখন তাকে স্বৈরাচারী শাসনের মিত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে করা হয়েছে।
শামীম হায়দার পাটওয়ারি উল্লেখ করেন, যদিও বর্তমান পরিস্থিতি কঠিন, তবুও পার্টি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে থাকবে যাতে সমতাপূর্ণ মাঠের অভাব প্রকাশ পায়। তিনি যোগ করেন, “সমতা না থাকলেও আমরা আমাদের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাব”।
জাতীয় পার্টির এই পদক্ষেপের ফলে আসন্ন নির্বাচনে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রভাব পুনরায় নির্ধারিত হতে পারে। পার্টি যদি উল্লেখিত প্রার্থীরা জেলখানায় থেকে সফল হয়, তবে তা সরকারের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিবাদ হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে, “ভূত মামলা” এবং অন্যান্য আইনি বাধা পার্টির নির্বাচনী প্রচারকে সীমিত করতে পারে।
এই তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে পার্টির সিদ্ধান্তের প্রতি বিভিন্ন মতামত প্রকাশ পেয়েছে। কিছু বিশ্লেষক জিএম কাদেরের মন্তব্যকে সরকারের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে কিছু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক পার্টির এই পদক্ষেপকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
জাতীয় পার্টি এখন পর্যন্ত যে সব প্রার্থীকে তালিকাভুক্ত করেছে, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের ওপর চলমান আইনি মামলার প্রভাব কী হবে, তা নির্বাচনের ফলাফলে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পার্টি এই তালিকাকে একধরনের রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে ব্যবহার করছে, যাতে ভোটাররা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার সম্পর্কে সচেতন হয়।
সামগ্রিকভাবে, জাতীয় পার্টির এই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ এবং জিএম কাদেরের রেফারেন্ডামকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে চিহ্নিত করা, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে। আসন্ন নির্বাচনে এই পদক্ষেপের ফলাফল কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে পার্টি স্পষ্টভাবে বলছে যে তারা সমান সুযোগের অভাব সত্ত্বেও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।



