বাংলাদেশের টিএ২০ দলকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যখন টিমের ক্যাপ্টেন লিটন দাস মঙ্গলবার একটি প্রেস কনফারেন্সে সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, “আপনি কি নিশ্চিত আমরা বিশ্বকাপে খেলব?”
আসন্ন টিএ২০ বিশ্বকাপ ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে আয়োজন করবে, এবং বাংলাদেশকে এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
লিটন দাসের প্রশ্নের মুহূর্তটি ঘটেছিল রংপুর রাইডার্সের বি.পিএল ম্যাচের পর, যেখানে তার দল শেষ মুহূর্তের ছয়ের পরে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে।
চূড়ান্ত ওভারে ক্রিস ওয়েকস ফাহিম আশরাফের উপর ছয়টি মারেন, ফলে বাংলাদেশ ১১২ রানের লক্ষ্য ৩ উইকেটের পার্থক্যে হারায়।
লিটন উল্লেখ করেন, বর্তমান পিচের গুণগত মান টিএ২০ ক্রিকেটের জন্য আদর্শ নয় এবং তিনি আশা করতেন কোয়ালিফায়ার ম্যাচের জন্য আরও উপযোগী পিচ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপের আগে এখনও অনেক সময় বাকি, তবু দলটি অংশগ্রহণের নিশ্চিততা নেই, তাই এই মুহূর্তে পিচের মান নিয়ে উদ্বেগ স্বাভাবিক।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ৪ জানুয়ারি নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের ভিত্তিতে দলকে ভারতের দিকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে লিটন দাসের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি।
প্রেস কনফারেন্সে তিনি জিজ্ঞেস করা হলে, বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগের অভাব সম্পর্কে তিনি জানিয়ে বলেন, “এ বিষয়ে আমার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।”
বিসিবি কেন লিটনকে এই সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত করেনি তা নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন না, তবে তিনি জানিয়েছেন যে তিনি এই ধরনের কোনো আলোচনার অংশ হননি।
দলীয় অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি “মন্তব্য নেই” বলে উত্তর দেন, ফলে খেলোয়াড়দের সমষ্টিগত মতামত স্পষ্ট হয়নি।
এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের দ্রুতগামী পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) ৩ জানুয়ারি বাদ পড়া, যা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিসি) নির্দেশনা অনুসারে করা হয়।
মুস্তাফিজুরের বাদ পড়া এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের ফলে বাংলাদেশ টিমের আন্তর্জাতিক সূচি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়েছে, যা খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও মনোভাবকে প্রভাবিত করছে।
বিশ্বকাপের সূচনা ৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত হবে এবং অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
লিটন দাসের এই প্রকাশনা এবং বোর্ডের নিরাপত্তা ভিত্তিক সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, এবং পরবর্তী সময়ে স্পষ্টতা আসার অপেক্ষা করা হচ্ছে।



