ঢাকা শহরে বাংলাদেশ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আফগানিস্তানের শিল্প ও বাণিজ্য উপমন্ত্রী মৌলভি আহমদুল্লাহ জাহিদের বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার জন্য যৌথ প্রদর্শনী আয়োজন এবং বাণিজ্যিক প্রতিনিধি (কমার্শিয়াল অ্যাটাশে) নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই চুক্তি ১৮ জানুয়ারি রবিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের মূল ফলাফল হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত আফগান ব্যবসায়িক দলের সংখ্যা প্রায় পঞ্চাশজন, যারা রোববারই বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। এ দলটি দেশের বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিত্ব করে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা অনুসন্ধানের জন্য এই সফর পরিচালনা করেছে।
বৈঠকের আলোচনায় বাণিজ্য চুক্তি, ব্যাংকিং সুবিধা এবং আফগান পণ্যের জন্য বিশেষ শুল্ক সুবিধা (প্রেফারেনশিয়াল ট্যারিফ) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষই বাণিজ্যিক বাধা দূর করার জন্য একটি যৌথ কমিটি গঠন করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে ভবিষ্যতে ট্রেড ফ্লো সহজ হয়।
আফগান প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের ওষুধ ও তৈরি পোশাক রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশি শিল্পখাতের জন্য এটি নতুন বাজারের দরজা খুলে দিতে পারে, বিশেষ করে ফার্মাসিউটিক্যাল ও টেক্সটাইল সেক্টরে রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
দুই দেশ যৌথভাবে ঢাকা ও কাবুলে একটি বাণিজ্যিক প্রদর্শনী আয়োজনের বিষয়েও সম্মত হয়েছে। এই ইভেন্টের মাধ্যমে উভয় দেশের উৎপাদক, রপ্তানিকারক এবং সম্ভাব্য ক্রেতা সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে পারবে, যা বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ বাড়াতে সহায়ক হবে।
বাণিজ্যিক প্রতিনিধির নিয়োগের সিদ্ধান্তও উভয় সরকারই গ্রহণ করেছে। এই কর্মকর্তারা দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক তথ্য আদান-প্রদান, বাজার গবেষণা এবং সম্ভাব্য বাধা চিহ্নিত করে সমাধান করার কাজ করবেন।
আফগান মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, বাংলাদেশি কর্মকর্তারা আফগান ব্যবসায়িক দলের স্বাগত জানিয়ে উষ্ণ আতিথেয়তা প্রদান করেছেন এবং বিদ্যমান বাণিজ্যিক সুযোগকে ভিত্তি করে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের রপ্তানি পোর্টফোলিওতে নতুন গন্তব্য যুক্ত করবে এবং আফগানিস্তানের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য সরবরাহের সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে ওষুধের ক্ষেত্রে আফগান বাজারে চাহিদা বাড়ছে, যা বাংলাদেশের ফার্মা কোম্পানিগুলোর জন্য লাভজনক হতে পারে।
তবে, লজিস্টিক্স, নিরাপত্তা এবং পেমেন্ট সিস্টেমের মতো বিষয়গুলো এখনও চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। যৌথ কমিটি এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করার দায়িত্বে থাকবে, যা বাণিজ্যিক লেনদেনের সময়সীমা ও খরচ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দুই দেশ ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে ঢাকা ও কাবুলে বৈঠক চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যাতে বাণিজ্যিক সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে উন্নত হয় এবং নতুন সুযোগ-সুবিধা সনাক্ত করা যায়। এই ধারাবাহিক সংলাপ বাণিজ্যিক সম্পর্ককে স্থায়ী ভিত্তিতে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।



