মদরাস হাইকোর্ট মঙ্গলবার জানা নায়কন ছবির সনদ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড (CBFC) এর আপিলের ওপর রায় সংরক্ষণ করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে অভিনেতা‑রাজনীতিবিদ বিজয়ের শেষ চলচ্চিত্রের মুক্তি সংক্রান্ত আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। আদালত রায়ের চূড়ান্ত নথি প্রকাশের আগে বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করা হবে।
বিজয়, যিনি সম্প্রতি তামিলগা ভেত্রি কাজহাগম (TVK) রাজনৈতিক পার্টি গঠন করেছেন, তার প্রত্যাশিত শেষ ছবি জানা নায়কন রাজনৈতিক দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ছবির বিষয়বস্তু ও প্রচারাভিযান পার্টির নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার লক্ষ্যে তৈরি, ফলে সনদ সংক্রান্ত বিতর্ক জাতীয় দৃষ্টিতে উঠে এসেছে।
CBFC প্রথমে ছবিটিকে “UA” রেটিং দেওয়ার সুপারিশ করেছিল, তবে পরবর্তীতে বোর্ড সনদ প্রদান থেকে বিরত থাকে। এই পরিবর্তনটি চলচ্চিত্রের কিছু দৃশ্যকে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও সশস্ত্র বাহিনীর চিত্রায়নে আপত্তিকর বলে অভ্যন্তরীণ অভিযোগের ভিত্তিতে নেওয়া হয়।
মদরাস হাইকোর্টের একটি বিভাগীয় বেঞ্চ, যার প্রধান বিচারপতি মানিন্দ্র মোহন শ্রীবস্তভ এবং জি. আরুল মুরুগন, তিন ঘণ্টা দীর্ঘ শুনানির পরে উভয় পক্ষের যুক্তি শোনে। বেঞ্চটি একক বিচারকের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে, যেখানে বোর্ডকে তৎক্ষণাৎ “UA” সনদ প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
CBFC-কে প্রতিনিধিত্বকারী অতিরিক্ত আইনজীবী অরল সুনদারেসন যুক্তি দেন যে একক বিচারক আদেশের আগে বোর্ডকে প্রতিক্রিয়া জমা দেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে প্রযোজকরা ৬ জানুয়ারি তারিখের নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করেনি, যা ছবিটিকে পুনর্বিবেচনা কমিটিতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
প্রযোজক সংস্থা KVN প্রোডাকশনসের পক্ষে কাজ করা সিনিয়র অ্যাডভোকেট সতীশ পারসারন বলেন যে CBFC এর আঞ্চলিক অফিস ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলক কমিটির সমবায় সুপারিশের ভিত্তিতে “UA” সনদ প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে একাধিক সদস্যের মধ্যে একমত সিদ্ধান্তের পরেও সংখ্যালঘু মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যা ন্যায়সঙ্গত নয়।
বিষয়টি মূলত CBFC এর অভ্যন্তরীণ অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে, যেখানে বলা হয়েছে ছবির কিছু দৃশ্য ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করে এবং সশস্ত্র বাহিনীর চিত্রায়নে অনুপযুক্ততা রয়েছে। তবে প্রযোজকরা দাবি করেন যে তারা বোর্ডের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাটছাঁট ইতিমধ্যে করেছে এবং অতিরিক্ত কোনো পরিবর্তন চাওয়া হয়নি।
নতুন রিভিউয়ের দাবি নিয়ে পারসারন উল্লেখ করেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে পুনরায় সমীক্ষা করা প্রয়োজন, যাতে সংখ্যালঘু মতামতকে অগ্রাধিকার না দিয়ে সমগ্র কমিটির ঐকমত্যকে মান্য করা যায়। তিনি আরও বলেন যে রিভিউ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সময়সীমা নির্ধারণ করা উচিত।
এই আইনি জটিলতা জানা নায়কনের মুক্তি সময়সূচিকে সরাসরি প্রভাবিত করছে, যা TVK পার্টির নির্বাচনী কৌশল ও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ছবির মুক্তি বিলম্বিত হলে পার্টির প্রচারাভিযানেও বাধা সৃষ্টি হতে পারে, ফলে উভয় পক্ষই দ্রুত সমাধান চায়।
মদরাস হাইকোর্টের রায় সংরক্ষণ মানে বিষয়টি এখনো বিচারাধীন এবং পরবর্তী শুনানিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আদালত রায়ের প্রকাশের পর ছবির সনদ ও মুক্তি সংক্রান্ত শেষ সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে, যা চলচ্চিত্র শিল্প ও রাজনীতির সংযোগস্থলে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।



