জুলাই ২০২৪-এ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় প্রধান ভূমিকা পালন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বহু ক্যাম্পাসে তারা প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেয়, তবে আন্দোলনের পর গঠিত রাজনৈতিক কাঠামোতে নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়া ধীরে ধীরে তাদেরকে প্রান্তিক করে দেয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বারা আক্রমণ ও মামলার শিকার হওয়া নারীরা, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায়ও সমান সুযোগ পায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (DUCSU) নির্বাচনে মোট প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৬২ জন নারী ছিলেন, যা প্রায় ১৩ শতাংশের সমান। তবে ভোটার তালিকায় নারীর অংশ ৪৮ শতাংশ, যা নির্দেশ করে যে নারীর প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি ভোটার ভিত্তিতে নয়, বরং প্রার্থী নির্বাচনে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদানকে যথাযথভাবে স্বীকৃতি না দিয়ে, পরবর্তী সময়ে ‘বিরাঙ্গনা’ শিরোনামটি মূলত তাদের শোক ও নির্যাতনকে সামনে রাখে, তাদের সামরিক ও কৌশলগত ভূমিকা উপেক্ষা করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি আজও অব্যাহত, যেখানে নারীর স্বায়ত্তশাসনকে স্বীকৃতি না দেওয়া সামাজিক ব্যর্থতা স্পষ্ট।
উদ্বোধনী আন্দোলনের সময় চিত্রলিগের সদস্যদের দ্বারা নারীদের অপমানের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, এবং আন্দোলনের পরের রাজনৈতিক পরিবেশে সাইবার বুলিংয়ের মাত্রা বাড়ে। DUCSU-র প্রায় সব নারী প্রার্থীই তাদের প্রচারাভিযানের সময় অনলাইন হুমকি ও অপমানের শিকার হয়। বিশেষ করে, শিবির সমর্থিত জিএস প্রার্থীর বিরুদ্ধে পিটিশন দায়ের করা এক নারীকে গ্যাং রেপের হুমকি দেওয়া হয়।
লিঙ্গভিত্তিক এই ধরনের অনলাইন আক্রমণকে রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই নীরব থাকে, যদিও বিষয়টি সকল আদর্শের মধ্যে সমানভাবে বিদ্যমান। এই নীরবতা কেবল ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে নিয়ন্ত্রণের একটি সরঞ্জাম হিসেবে কাজ করে।
ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের অধীনে পূর্বে গ্রেফতার ও কারাদণ্ড ভোগ করা খাদিজাতুল কুবরা, এই প্রেক্ষাপটে আবারও নজরে আসেন। তার পূর্বের মামলা ও শাস্তি নারীর রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও মত প্রকাশের ওপর আরোপিত আইনি বাধার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণে কী প্রভাব ফেলবে তা স্পষ্ট নয়, তবে বর্তমান প্রবণতা নির্দেশ করে যে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে আইনি, সামাজিক ও পার্টি স্তরের সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজন। সাইবার হুমকি ও শারীরিক হুমকির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ, পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকে লিঙ্গভিত্তিক হিংসা মোকাবেলায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
যদি এই চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান না করা হয়, তবে নারী শিক্ষার্থী ও কর্মীদের রাজনৈতিক মঞ্চে অংশগ্রহণের ইচ্ছা ও সক্ষমতা হ্রাস পাবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বৈচিত্র্য ও শক্তিকে ক্ষুণ্ন করবে। তাই, নারী রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে সুরক্ষিত ও সমর্থন করার জন্য নীতি নির্ধারণকারী, আইনি সংস্থা ও সমাজের সকল স্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।



