ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়ন (ডিইউসিইউ) আজ টিচার‑স্টুডেন্ট সেন্টার (টিএসসি) তে প্রথম পেট কার্নিভাল আয়োজন করে, যার মূল লক্ষ্য ক্যাম্পাসে প্রাণী কল্যাণের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করা। অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের পাশাপাশি প্রাণীপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য সমাবেশের রূপ নেয়।
এই ইভেন্টটি ডিইউসিইউ, মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রণালয় এবং কেয়ার ডিইউ একসাথে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছে। ত্রিপক্ষীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মসূচির কাঠামো নির্ধারিত হয় এবং বিভিন্ন সেবা ও উপকরণ সরবরাহ করা হয়।
মন্ত্রণালয় থেকে তহবিলের পাশাপাশি টিকাদান, রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা সহ বিভিন্ন পশুস্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে ক্যাম্পাসের পোষা প্রাণীদের জন্য টিকাদান ও জরুরি চিকিৎসা সেবা অন্তর্ভুক্ত, যা অংশগ্রহণকারীদের বড় স্বস্তি প্রদান করে।
কার্নিভালের মূল আকর্ষণগুলোর মধ্যে ছিল ‘পেট র্যাম্প ওয়াক’, যেখানে কুকুর ও বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণী তাদের মালিকের সঙ্গে মঞ্চে হাঁটতে পারত। আর ‘ড্রেস অ্যাজ ইউ লাইক’ নামে একটি সৃজনশীল সেগমেন্টে পোষা প্রাণীদের বিভিন্ন রঙিন ও কল্পনাপ্রবণ পোশাক পরিয়ে উপস্থাপন করা হয়।
বিশেষভাবে বিড়ালদের জন্য তিনটি প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। প্রথমটি ছিল মালিকের সঙ্গে র্যাম্প শো, যেখানে মালিক ও বিড়াল একসাথে মঞ্চে হাঁটত। দ্বিতীয়টি ছিল খাবার খাওয়ার প্রতিযোগিতা, যেখানে দ্রুত খাবার শেষ করা বিড়ালকে পুরস্কার দেওয়া হয়। তৃতীয়টি ছিল সৃজনশীল পোশাক প্রতিযোগিতা, যেখানে বিড়ালকে বিভিন্ন সাজসজ্জা দিয়ে সাজিয়ে বিচারকরা মূল্যায়ন করতেন।
ডিইউর ১৮টি হল ইউনিয়নের প্রত্যেককে প্রায় দুই লক্ষ টাকার সমমানের প্রাণী খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। এতে বিড়াল ও কুকুরের জন্য ১০‑১২ কেজি প্যাকেট, শেল্টার বক্স এবং পাখির বাসা অন্তর্ভুক্ত। এই পদক্ষেপটি ক্যাম্পাসের সব হলে পোষা প্রাণীর সঠিক পুষ্টি ও নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
ইভেন্টের সময় অভিজ্ঞ পশু চিকিৎসকদের পরামর্শ সেবা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। আধুনিক আল্ট্রাসাউন্ড মেশিনসহ বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সরঞ্জামও উপস্থিত ছিল, যা দ্রুত রোগনির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করতে সহায়তা করে।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য টি-শার্ট ও হালকা খাবার সরবরাহ করা হয়, আর পোষা প্রাণীদের জন্য ছোট উপহার সামগ্রী প্রস্তুত করা হয়। এই ছোট ছোট উপহারগুলো অংশগ্রহণের আনন্দ বাড়িয়ে দেয় এবং প্রাণী ও মালিকের মধ্যে বন্ধনকে দৃঢ় করে।
অনুষ্ঠানের আয়োজকরা উল্লেখ করেন, পোষা প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য, বিশেষ করে বিড়ালের প্রতি মনোযোগ বাড়ানো। তারা আশা করেন, এই ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রাণী কল্যাণের গুরুত্ব বুঝতে পারবে এবং ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল পোষা প্রাণীর মালিক হয়ে উঠবে।
ডিইউসিইউয়ের ভাইস প্রেসিডেন্টও বলেন, পেট কার্নিভালটি প্রাণী কল্যাণকে প্রতিষ্ঠানের কাঠামোর মধ্যে স্থাপন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং দেশের বিভিন্ন অংশে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি যোগ করেন, এমন উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে প্রাণী কল্যাণের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
পোষা প্রাণীর যত্ন নেওয়ার সময় সঠিক খাবার, নিয়মিত টিকাদান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। আপনার বাড়িতে যদি কোনো পোষা প্রাণী থাকে, তবে তার স্বাস্থ্যবিধি ও পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন হয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিন; এভাবেই আপনি তাদের দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে পারবেন।



