ব্রুকলিন বেকহ্যাম সোমবার রাতের দিকে ইনস্টাগ্রামে ছয় পৃষ্ঠার একটি পোস্ট প্রকাশ করে তার বাবা ডেভিড ও মা ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি তার নিকোলা পেল্টজের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিবাহের কিছু ঘটনার বিশদ বর্ণনা দেন, যার মধ্যে তার মা প্রথম নৃত্য দখল করার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত।
ব্রুকলিনের মতে, বিবাহের প্রথম নৃত্যটি কয়েক সপ্তাহ আগে নির্ধারিত একটি রোমান্টিক গানের সঙ্গে পরিকল্পিত ছিল। তবে অনুষ্ঠান চলাকালে তার মা ভিক্টোরিয়া অপ্রত্যাশিতভাবে নাচের মঞ্চে এসে তার সঙ্গে নাচে যুক্ত হন, যা তিনি “অসুবিধাজনক ও লজ্জাজনক” বলে বর্ণনা করেন। তিনি এই ঘটনার ফলে নিজের আত্মসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
এই দাবিগুলি প্রকাশের পরই সামাজিক মাধ্যমে বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অনলাইন ব্যবহারকারীরা পোস্টের বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে বিভিন্ন মিম ও কাল্পনিক ছবি তৈরি করে শেয়ার করতে থাকে এবং উপস্থিত অতিথিদের কাছ থেকে ভিডিও বা ছবি প্রকাশের দাবি জানায়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন যে, যদি ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ না থাকত, তবে ৫০০ জন অতিথির মধ্যে কেউ না কেউ ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারতেন।
বিবাহের সময়সূচি ও পারফরম্যান্স সম্পর্কে ব্রিটিশ ভোগের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে যে, রাত ১১ টায় একটি বৃত্তাকার মঞ্চ ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে মার্ক অ্যান্থনি লাইভ পারফরম্যান্সের জন্য মঞ্চে উপস্থিত হন এবং “I Need To Know” গানের সঙ্গে অনুষ্ঠান শুরু করেন।
ভোগের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্রুকলিন তার মা ভিক্টোরিয়াকে মঞ্চে নাচের জন্য আমন্ত্রণ জানান এবং পরে তার বাবা ডেভিড বেকহ্যামও সঙ্গে যোগ দেন। প্রতিবেদনে নাচের সময় কোনো অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বা বাধ্যতামূলক আচরণের উল্লেখ নেই; বরং পরিবারটি একসাথে নাচে অংশ নেওয়ার দৃশ্য বর্ণনা করা হয়েছে।
ব্রুকলিনের পোস্টে উল্লেখিত অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে তার বিবাহের পোশাক সংক্রান্ত কিছু তর্কও অন্তর্ভুক্ত ছিল, তবে সেসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমানে বেকহ্যাম পরিবার থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি, ফলে এই বিবাদটি এখনও উন্মুক্ত রয়ে গেছে।
পরিবারিক বিষয়গুলোতে ব্যক্তিগত স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা প্রায়শই ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়, তাই একপক্ষীয় বর্ণনা পুরো চিত্র উপস্থাপন নাও করতে পারে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মিডিয়া ও অনলাইন ব্যবহারকারীরা উভয় দিকের দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
বেকহ্যাম পরিবারের ব্যক্তিগত জীবন সর্বদা জনসাধারণের নজরে থাকে, এবং এই নতুন বিতর্ক তাদের জনজীবনের আরেকটি অধ্যায় যোগ করেছে। ভবিষ্যতে পরিবার থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশিত হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে।
পাঠকগণকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ব্যক্তিগত অভিযোগের পেছনে বহু দৃষ্টিকোণ থাকতে পারে এবং সঠিক মূল্যায়নের জন্য সকল প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনা করা জরুরি।



