ঢাকা, ২০ জানুয়ারি – জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উদযাপনের অংশ হিসেবে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের শিক্ষাপ্রণালিতে এখনও পাঠ্যবই ও পরীক্ষার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেখা যায়, যা শিশু ও কিশোরদের স্বাভাবিক প্রতিভা বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে।
উপদেষ্টা বলেন, এখন সময় এসেছে পাঠ্যক্রম ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয় পুনর্বিবেচনা করার, যাতে শিক্ষার্থীরা তত্ত্বগত জ্ঞান ছাড়াও বাস্তব দক্ষতা অর্জন করতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়কে মানসম্পন্ন শিক্ষার পরিবেশে রূপান্তরিত করা দরকার, একাধিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত।
অনুষ্ঠানে তিনি দেশের দূরবর্তী অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অর্জিত সাফল্যের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই সাফল্যগুলো প্রমাণ করে যে মেধা কেবল শহুরে বা ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়; প্রত্যেক কোণায় প্রতিভা লালনের সুযোগ তৈরি করা জাতীয় দায়িত্ব।
উপদেষ্টা বিশেষভাবে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজি রচনা, বক্তৃতা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে নারীদের সক্রিয় উপস্থিতি সমাজে নারীর ক্ষমতায়নের ইতিবাচক সূচক। এই প্রবণতা ভবিষ্যতে শিক্ষার সমতা ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইভেন্টের সময় সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি হয়। সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সকারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান করা হয়, যা তাদের প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, যিনি বিশেষ অতিথি হিসেবে সমাবেশে অংশ নেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন এবং সমাপনী মন্তব্যে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের এই অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে মোট ৯৮১ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ২৬১ জনকে চূড়ান্ত রাউন্ডে নির্বাচিত করে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হয়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন শাখা থেকে সেরা পারফরম্যান্সকারী শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত, যা শিক্ষার বহুমুখী দিককে তুলে ধরে।
উপদেষ্টা আবরার উল্লেখ করেন, শিক্ষার উন্নয়নে শুধুমাত্র কয়েকটি শীর্ষ বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর না করে, প্রতিটি স্কুলকে সমানভাবে উন্নত করার নীতি অনুসরণ করা জরুরি। তিনি বলেন, সমান সুযোগের মাধ্যমে প্রতিটি শিশুর স্বাভাবিক মেধা ও আগ্রহের বিকাশ সম্ভব হবে, যা দেশের সামগ্রিক মানবসম্পদকে শক্তিশালী করবে।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ভবিষ্যতে শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করেন। অংশগ্রহণকারীরা একে অপরের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে শিক্ষার পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করার উপায় খুঁজে বের করেন।
এই সমাবেশের মাধ্যমে শিক্ষা নীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য সমাধানগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা নীতি নির্ধারক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
আপনার বিদ্যালয়ে কীভাবে পাঠ্যবই ও পরীক্ষার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাস্তব দক্ষতা বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আপনার মতামত শেয়ার করুন।



