মাগুরা সদর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে গোনোফোরাম নির্বাচনী প্রার্থী ও পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের গ্রামবাড়িতে রাত ২:৩০ থেকে ৩ টার মধ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
দুর্বৃত্তরা ককটেল নিক্ষেপ করে বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দ্রুতস্থান ত্যাগ করে। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ অগ্নি নিভে যায় এবং কোনো প্রাণহানি রেকর্ড করা হয়নি।
আক্রমণের পর মিজানুর রহমান স্থানীয় থানা-তে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করেন। মাগুরা সদর থানার অফিসার-ইন-চার্জ মো. আশিকুর রহমান ঘটনাটিকে নিশ্চিত করে জানান, “দুর্বৃত্তরা মিজানুরের গ্রামবাড়িতে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছে, তবে ক্ষতি তেমন হয়নি। প্রার্থী ওই বাড়িতে বসবাস করেন না।现场 থেকে একটি অপ্রদাহিত ককটেল‑সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে।”
হাজিপুর পুলিশ ক্যাম্পের এসআই রিপন বিশ্বাস জানান, রাত্রিকালীন দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে ককটেল‑সদৃশ বস্তু এবং গ্লাসের বোতলে সংরক্ষিত দাহ্য পদার্থ উদ্ধার করেছে।
মিজানুর রহমান জানান, তিনি বিকেলে গ্রামবাড়িতে গিয়েছিলেন, রাতের দিকে শহরে ফিরে আসেন এবং প্রায় ৩ টায় ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের খবর পান।
তিনি উল্লেখ করেন, “আমি টেলিভিশন শোতে মব সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে কথা বলেছি। এই ধরনের আক্রমণ আমাকে নির্বাচনের আগে ভয় দেখিয়ে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।”
মিজানুর নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেন, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ন্যায়সঙ্গত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।
গোনোফোরামের কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান সুব্রত চৌধুরীও ঘটনাটির তীব্র তদন্তের দাবি জানিয়ে, দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।
এই আক্রমণ নির্বাচনী সময়কালে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে, বিশেষ করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে তীব্র করে তুলবে। সংশ্লিষ্ট দলগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চাপ দেবে।
পুলিশ বর্তমানে ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ককটেল‑সদৃশ বস্তু এবং দাহ্য পদার্থের বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করার জন্য অনুসন্ধান বাড়িয়ে দিচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে কোনো উল্লেখযোগ্য সম্পত্তি ক্ষতি রেকর্ড করা যায়নি এবং বাড়ির কাঠামোগত ক্ষতি সীমিত রয়ে গেছে।
সামগ্রিকভাবে, মাগুরা জেলার এই ঘটনার ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।



