জাতীয় প্রশাসনিক পুনর্গঠন কমিটি (Nicar) আজ জামুনা বাসভবনে অনুষ্ঠিত ১১৯তম বৈঠকে নতুন থানা স্থাপন এবং অন্যান্য প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই বৈঠকটি প্রধান উপদেষ্টা নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কাঠামোকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্তে চারটি নতুন থানা, একটি আপডেটেড জেলা শ্রেণি, এবং একাধিক সংস্থার নাম পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত। এসব পরিবর্তন দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্থানীয় উন্নয়নে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।
বৈঠকে ছয়জন উপদেষ্টা, ক্যাবিনেট সেক্রেটারি, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এবং চৌদ্দজন সিনিয়র সেক্রেটারি উপস্থিত ছিলেন। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এই দলটি নীতি নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও পরামর্শ প্রদান করে। উপস্থিতির সংখ্যা নির্দেশ করে যে এই ধরনের প্রশাসনিক পুনর্গঠনকে সরকার কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। বৈঠকের আলোচনায় বিভিন্ন বিভাগের মতামত ও প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়।
কমিটি নতুন থানা হিসেবে গাজীপুরের পুরবাচল উত্তর, নারায়ণগঞ্জের পুরবাচল দক্ষিণ এবং কক্সবাজারের মাতারবাড়ি এলাকায় থানা গড়ার অনুমোদন দেয়। এছাড়া নারসিংদিতে রায়পুরা উপজেলা ভাগ করে অতিরিক্ত একটি থানা স্থাপনের প্রস্তাবও স্বীকৃত হয়েছে। এই থানা গুলো স্থানীয় আইন প্রয়োগে দ্রুততা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন থানা গুলোর অবস্থান কৌশলগতভাবে নির্বাচিত হয়েছে যাতে অপরাধ মোকাবেলা ও জনসেবা সহজ হয়।
নার্সিংদিতে রায়পুরা উপজেলার বিভাজন এবং অতিরিক্ত থানা স্থাপনের পরিকল্পনা স্থানীয় প্রশাসনের কাজের চাপ কমাতে সহায়ক হবে। এই পদক্ষেপটি এলাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অপরাধের প্রবণতা বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে। নতুন থানা গঠনের মাধ্যমে পুলিশ কর্মীকে আরও কার্যকরভাবে মোতায়েন করা সম্ভব হবে। ফলে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব প্রত্যাশিত।
কমিটি সাটখিরা জেলার শ্রেণি ‘বি’ থেকে ‘এ’ তে উন্নীত করার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করে। এই পরিবর্তনটি জেলার পরিবেশগত গুরুত্ব, পর্যটন সম্ভাবনা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে। ‘এ’ শ্রেণি পেতে সাটখিরা জেলা উন্নত অবকাঠামো ও সেবা পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ফলে জেলা পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে নতুন দিক খুলে যাবে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ট্রালয়কে ‘নারী ও শিশু মন্ট্রালয়’ নামে পরিবর্তনের অনুমোদনও একই বৈঠকে নেওয়া হয়। ইংরেজি নাম Ministry of Women and Children Affairs (MoWCA) অপরিবর্তিত থাকবে। নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে সংস্থার কাজের ক্ষেত্র ও দায়িত্বকে আরও স্পষ্ট করা হবে। এই পদক্ষেপটি লিঙ্গ সমতা ও শিশুর অধিকার সংরক্ষণে সরকারের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
বৈঠকে মোট এগারোটি প্রশাসনিক পুনর্গঠন প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। নতুন থানা, জেলা শ্রেণি পরিবর্তন এবং সংস্থার নাম পরিবর্তন সবই দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত। এই সিদ্ধান্তগুলো সরকারী নীতি ও পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করা হচ্ছে। অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
এই ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তন ভবিষ্যতে স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধি ও নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন থানা গঠনের ফলে স্থানীয় নেতাদের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত দাবিগুলোকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হবে। সাটখিরা জেলার উন্নত শ্রেণি স্থানীয় ব্যবসা ও পর্যটন সংস্থার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। সরকার এই পদক্ষেপগুলোকে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চালিয়ে যাবে।



