বাগেরহাটের খানজাহান আলী দরগা মাঠে মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রচারের অংশ হিসেবে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত মতামত শেয়ার করার লক্ষ্য রাখা হয়।
সমাবেশের আয়োজন জেলা প্রশাসকের অধীনে করা হয় এবং গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ পাঁচ বছর বা তার পরের সময়ে দেশের শাসন‑প্রণালী কীভাবে গড়ে উঠবে তা ভোটারদের হাতে থাকবে।
খাদ্য ও জাতীয় ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার সমাবেশে তার বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের পরবর্তী পাঁচ বছর বা তার পরের সময়ে কীভাবে পরিচালিত হবে এবং জুলাই সনদের সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হবে কিনা, তা জনগণকে ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।
মজুমদার আরও জানান, জুলাই সনদ একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি যা দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত এবং তার কার্যকরী বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোটের মাধ্যমে জনগণই নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণের মূল ভূমিকা পালন করবে।
সমাবেশে পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট মো. হাসান চৌধুরীরও বক্তব্য শোনা যায়। তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব এবং নির্বাচনের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ আবু আনসার ভোটার তালিকা আপডেট, ভোটারদের সঠিক তথ্য প্রদান এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা বলেন। তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের অনিয়ম না ঘটার জন্য সকল স্টেকহোল্ডারকে সতর্ক করেন।
অধিক তথ্য ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মইনুল ইসলাম সমাবেশে অংশ নেন। তিনি মিডিয়া ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেন।
সমাবেশের পূর্বে জেলা তথ্য অফিসের সমন্বয়ে একটি ক্যারাভ্যান ভোটার গাড়ি ব্যবহার করে ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এই চিত্রে ভোটের প্রক্রিয়া, ভোটার নিবন্ধন এবং ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে বিশদভাবে জানানো হয়।
প্রদর্শনীটি সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং ভোটারদের মধ্যে তথ্যের ঘাটতি দূর করতে সহায়তা করেছে বলে উপস্থিতরা মন্তব্য করেন।
সমাবেশের সভাপতিত্ব জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন করেন। তিনি সমাবেশের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সকল নাগরিককে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আহ্বান জানান।
উপদেষ্টার বক্তব্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত রূপে সরকারকে হস্তান্তর করা হবে। এই সুপারিশের পরবর্তী ধাপ হবে সরকারী অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
অবশেষে, সমাবেশে উপস্থিত সকল অংশগ্রহণকারী একমত হন যে, জুলাই সনদের সঠিক বাস্তবায়ন এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা নির্ধারণে ভোটারদের সিদ্ধান্তই সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে। ভোটের মাধ্যমে জনগণকে নীতি নির্ধারণে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার শক্তি বৃদ্ধি করবে।



