খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার শহরের পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে একত্রিত হয়ে অনুদান চেকের হস্তান্তর অনুষ্ঠান পরিচালনা করে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত তহবিলের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, রোগী, স্বনির্ভর কর্মী এবং সংস্কৃতি উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানটি জেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন চেক হস্তান্তরের দায়িত্ব নেন। তিনি বিতরণকৃত তহবিলের লক্ষ্য ও ব্যবহার সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করেন এবং উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান।
শিক্ষা সহায়তা প্যাকেজের আওতায় মোট ১১৯ জন শিক্ষার্থীকে ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করা হয়। এই তহবিলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি, পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাসামগ্রী ক্রয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চিকিৎসা সহায়তা প্যাকেজে ১১ জন রোগীকে মোট ৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকার তহবিল প্রদান করা হয়। এই অর্থের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা খরচ, ওষুধ ও হাসপাতাল সেবার জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
গ্রাম উন্নয়ন (GR) খাতের আওতায় ৬৩ জন স্বনির্ভর কর্মীকে ১ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করা হয়। এই তহবিলের মূল উদ্দেশ্য হল স্বনির্ভর উদ্যোগকে উৎসাহিত করা, বেকারত্ব কমানো এবং দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তা করা।
শিক্ষা ও সংস্কৃতির সার্বিক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৭ জনকে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করা হয়। এই তহবিলের মাধ্যমে স্থানীয় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষামূলক কর্মশালার আয়োজনের জন্য সহায়তা প্রদান করা হবে।
উল্লেখিত সব বিভাগ মিলিয়ে মোট ১ কোটি ৭৫ লাখ ৫ হাজার টাকার অনুদান বিতরণ করা হয়। এই তহবিলের লক্ষ্য হল পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য হ্রাসে সরাসরি অবদান রাখা।
অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের সদস্য প্রফেসর আব্দুল লতিফ, লিটন মনি চাকমা, মো. মাহবুবুল আলম এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা চিংলা মং মারমা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি স্থানীয় প্রশাসনের সমর্থন ও সহযোগিতা নির্দেশ করে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এ ধরনের তহবিল বিতরণ সরকারী দারিদ্র্য বিমোচন নীতির একটি অংশ এবং নির্বাচনী সময়ে ভোটারদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে তারা তহবিলের স্বচ্ছতা ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য তদারকি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
অবশিষ্ট তহবিলের ব্যবহার ও পরবর্তী বিতরণ পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রণালয় ও জেলা পরিষদ ভবিষ্যতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ সভা আয়োজনের কথা জানিয়েছে। এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা করা হচ্ছে।



