28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানঅ্যান্টার্কটিকার পেঙ্গুইনের প্রজনন ঋতুতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

অ্যান্টার্কটিকার পেঙ্গুইনের প্রজনন ঋতুতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

অ্যান্টার্কটিকায় তাপমাত্রা বাড়ার প্রভাবের ফলে পেঙ্গুইনের প্রজনন সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অক্সফোর্ড ব্রুকস বিশ্ববিদ্যালয়ের দশ বছরব্যাপী “পেঙ্গুইন ওয়াচ” গবেষণায় ২০১২ থেকে ২০২২ পর্যন্ত তিনটি পেঙ্গুইন প্রজাতির ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফলাফল দেখায় যে, গড়ে প্রজনন ঋতু পূর্বের তুলনায় বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে শুরু হচ্ছে, যা পেঙ্গুইনের খাবার সরবরাহ ও বাচ্চার বেঁচে থাকার সম্ভাবনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণায় এডেলি (Adélie), চিনস্ট্র্যাপ (Chinstrap) এবং জেন্টু (Gentoo) পেঙ্গুইনের প্রজনন সময়ের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। জেন্টু পেঙ্গুইনের ক্ষেত্রে গড়ে ১৩ দিন এবং কিছু অঞ্চলে ২৪ দিন পর্যন্ত প্রজনন ঋতু আগিয়ে গেছে। এই অগ্রগতি পাখি এবং সম্ভবত অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর মধ্যে রেকর্ড করা সবচেয়ে দ্রুত ফেনোলজিকাল পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত। এডেলি ও চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের প্রজনন সময়ও গড়ে প্রায় ১০ দিন আগে শুরু হয়েছে।

গবেষণার প্রধান লেখক ড. ইগনাসিও জুয়ারেজ মার্টিনেজ উল্লেখ করেন যে, পেঙ্গুইনের প্রজনন ঋতুতে এত দ্রুত পরিবর্তন তাদের জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যদি শিকারের প্রাপ্যতা সময়ের সাথে সামঞ্জস্য না রাখে, তবে বাচ্চাদের প্রথম সপ্তাহে খাবারের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা গর্ভধারণের ব্যর্থতা বা বাচ্চার মৃত্যুর দিকে নিয়ে যেতে পারে। এই সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে গবেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।

জেন্টু পেঙ্গুইনকে তুলনামূলকভাবে উষ্ণ পরিবেশে বেশি মানিয়ে নিতে সক্ষম প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অ্যান্টার্কটিকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে এই প্রজাতির বসবাসের এলাকা সম্প্রসারিত হয়েছে এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, এডেলি ও চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের সংখ্যা হ্রাসের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা তাদের বাসস্থান ও খাবারের প্রাপ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়।

এই গবেষণার ফলাফল “জার্নাল অব অ্যানিমেল ইকোলজি”তে প্রকাশিত হয়েছে এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে পেঙ্গুইন প্রজাতির জীববৈচিত্র্য ও প্রজনন কৌশলে কীভাবে প্রকাশ পায় তা স্পষ্ট করে। গবেষকরা পরামর্শ দেন যে, অ্যান্টার্কটিকায় খাদ্য শৃঙ্খলের পরিবর্তন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে পেঙ্গুইনের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করা যায়।

অ্যান্টার্কটিকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পেঙ্গুইনের প্রজনন ঋতুতে যে পরিবর্তন ঘটছে, তা বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাবের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এই পরিবর্তনগুলো কীভাবে পেঙ্গুইনের দীর্ঘমেয়াদী বেঁচে থাকা ও বাসস্থানকে প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। আপনি কি মনে করেন, এই ধরনের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে জলবায়ু নীতি গঠনে কী ভূমিকা রাখতে পারে?

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments