প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) এর ১১৯তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশব্যাপী প্রশাসনিক পুনর্গঠন সংক্রান্ত একাধিক প্রস্তাব অনুমোদিত হয়, যার মধ্যে নতুন চারটি থানা স্থাপন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি নতুন বিভাগ গঠন এবং কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের কাঠামো পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত। এই পদক্ষেপগুলো caretaker সরকারের অধীনে নিকার প্রথম সভা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
সভার মূল আলোচ্যসূচিতে চারটি নতুন থানা গঠনের অনুমোদন রয়েছে, যা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ নামে দুটি প্রশাসনিক ইউনিট গঠন করা হবে, যা রাজস্ব সংগ্রহের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগকে একত্রিত করে ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়’ গঠনের প্রস্তাবও এই সভায় অনুমোদিত হয়। এই পুনর্গঠন স্বাস্থ্য নীতি সমন্বয় এবং পরিবার কল্যাণ সেবার কার্যকর বাস্তবায়নকে সহজতর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। তবে ইংরেজি নাম Ministry of Women and Children Affairs (MoWCA) অপরিবর্তিত থাকবে, যা আন্তর্জাতিক সংযোগে ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
সভায় মোট এগারোটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়, যার মধ্যে রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ২০২৫ সালের আদেশ ইতিমধ্যে জারি করা হয়েছে। এই আদেশগুলো নতুন বিভাগগুলোর কার্যক্রমের আইনি ভিত্তি সরবরাহ করবে এবং সংশ্লিষ্ট নীতি প্রয়োগে সহায়তা করবে।
অধিকন্তু, পরিবেশগত ও পর্যটন সম্ভাবনা বিবেচনা করে সাতক্ষীরা জেলাকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করার প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়। এই পরিবর্তন জেলাটির উন্নয়ন প্রকল্প এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
থাকুরগাঁও জেলায় ‘ভুল্লী’ থানার বানান সংশোধন করে ‘ভুল্লী’ করা হবে, যা প্রশাসনিক রেকর্ডের সঠিকতা নিশ্চিত করবে। এই ধরনের ছোটখাটো পরিবর্তনগুলো স্থানীয় পরিচয় এবং সেবা প্রদানকে সহজতর করে।
সভায় প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র, অর্থ ও আইন উপদেষ্টা সহ ছয়জন উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবসহ মোট চৌদ্দজন সরকারী কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতির বিশদ তালিকা সভার গুরুত্ব এবং সিদ্ধান্তের বৈধতা তুলে ধরে।
অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো এখন বাস্তবায়নের পর্যায়ে অগ্রসর হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাঠামো গঠন, কর্মী নিয়োগ এবং নীতি প্রয়োগের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দেশের প্রশাসনিক দক্ষতা ও সেবার গুণগত মান উন্নয়নে কী ভূমিকা রাখবে, তা পরবর্তী পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে।



