২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) রামপুরা এলাকায় ২৫ মার্চের রাতের মতো একটি হত্যাযজ্ঞ ঘটেছে বলে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শুরুর বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরা অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ২৮ জনের মৃত্যু ঘটেছে এবং এ ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় বিচার করা হবে। তাজুল ইসলাম বলেন, ঐ রাতের গুলিবিদ্ধ গৃহে গুলি চালিয়ে লোকজনকে হত্যা করা হয়েছিল, যা দেশের ইতিহাসে অনন্য এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
এই মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আইসিটি-১-এ বিচার শুরু হয়েছে। শুরুর বক্তব্যের পর, বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালের অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম এবং মেজর মো. রাফাত‑বিন‑আলম মুন।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে পুলিশ বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ওয়াইস কমিশনার মো. মশিউর রহমান, যাদের উভয়ই বর্তমানে পলাতক অবস্থায় আছেন। আইসিটি-এ তাদের উপস্থিতি না থাকলেও, মামলার প্রমাণ এবং সাক্ষ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্ত চলবে।
প্রথম সাক্ষ্য গ্রহণে উপস্থিত হন বিশ্বজিৎ রাজবংশী, যিনি রামপুরা এলাকায় আন্দোলন চলাকালে তার পিতা গঙ্গাচরণ রাজবংশীর গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি জানান, সেই সময়ে বিজিবি গুলিবিদ্ধ গৃহে প্রবেশ করে গুলি চালিয়ে অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, যা তিনি ও তার পরিবারকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
সাক্ষ্য গ্রহণের পর, ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী শুনানির তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করে। এই তারিখে অতিরিক্ত সাক্ষী, প্রমাণ এবং অভিযুক্তদের উপস্থিতি যাচাই করা হবে। আদালত উল্লেখ করেছে, মামলার সকল দিক যথাযথভাবে বিবেচনা করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের শাস্তি কঠোরভাবে আরোপ করা হবে।
আইসিটি-১-এ চলমান এই মামলাটি দেশের মানবাধিকার রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, রামপুরা হত্যাযজ্ঞের মতো অনন্য এবং নিন্দনীয় ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা দেশের আইনি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াবে।
অধিকন্তু, আইসিটি-এ মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, ভবিষ্যতে অতিরিক্ত সাক্ষী ও প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে গুলিবিদ্ধ গৃহের ভিডিও রেকর্ড, গৃহের ভেতরের অবস্থা এবং গুলির ধরণ সংক্রান্ত ফরেনসিক বিশ্লেষণ। এইসব তথ্যের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্তদের দায়িত্ব নির্ধারণে সহায়তা পাবে।
মামলায় যুক্ত সকল পক্ষকে আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে এবং ন্যায়বিচারের জন্য সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। তাছাড়া, রামপুরা এলাকায় ঘটিত এই হত্যাযজ্ঞের শিকার পরিবারগুলোর প্রতি সরকার ও সমাজের সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই মামলার পরবর্তী ধাপগুলোতে, আইসিটি-১-এ অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ, প্রমাণ বিশ্লেষণ এবং অভিযুক্তদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থার অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত। আদালত উল্লেখ করেছে, রামপুরা হত্যাযজ্ঞের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা দেশের আইনি কাঠামোর শক্তি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ।
সারসংক্ষেপে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রামপুরা হত্যাযজ্ঞ মামলায় শুরুর বক্তব্য, প্রথম সাক্ষ্য এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণের মাধ্যমে মামলাটি গতি পেয়েছে। আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সকল প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকারদের জন্য ন্যায়সঙ্গত ফলাফল নিশ্চিত করবে।



